ভোট প্রদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশগ্রহণ করে যার যার নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় যাঁরা আজ এখনো ভোটপ্রদানে অংশগ্রহণ করেননি, দ্রুত ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে তাঁরা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদার হন। আজকের এই নির্বাচনে আমাদের প্রধান লক্ষ্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে সবাই ভোট দিয়ে প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানা তাঁদের কাছে ফেরত দেওয়া। আমরা প্রত্যাশা করছি, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্বে যে সময়টুকু রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ভোট প্রদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশগ্রহণ করে যাঁর যাঁর নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করবেন।’
গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনার কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন আরও বলেন, ‘ভোট জনগণের নাগরিক অধিকার। ভোটকেন্দ্রে দৃশ্যমান যে জনসমাগম রয়েছে, দিনশেষে সেটিই পূর্ণাঙ্গতা পাবে। আপনাদের মূল্যবান ভোটই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও নবীন-প্রবীণ, নারী, পুরুষ আকাঙ্ক্ষাকে আকাঙ্ক্ষাকে সুনিশ্চিত করবে, ইনশাল্লাহ।
ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইন দেখা গেলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি আশানুরূপ নয় উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো চলমান। পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো আমাদের হাতে আসেনি। তবে নোয়াখালীর হাতিয়া ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশব্যাপী কিছু জায়গায় কিছু অসঙ্গতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় আজও দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি আশানুরূপ নয়। ভোটপ্রদানের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আমাদের প্রত্যাশা যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন, তারা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে সেগুলো সমাধান করবেন।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ, গুম হওয়া মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর যেহেতু গণমানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, একে কেন্দ্র করে রয়েছে অনেক আবেগ, আকাঙ্ক্ষা এবং অনুভূতি। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়, বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল গতকাল রাত থেকে অনেক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস বেশ কিছু ঘটনার জন্ম দিয়েছে, যা সচেতন জনগণ মিডিয়ার গোচরে এনেছেন এবং প্রতিহত করেছেন। সংগঠিত ঘটনাগুলো নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার ব্যাপারে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যাশা করছি। বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয়কে আঁচ করতে পেরে তাঁদের এই অপপ্রয়াস সফল হবে না, তার প্রমাণ হিসেবেই দেশজুড়ে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদানে অংশগ্রহণ করছেন। আমরা আশা করি, জনগণ দীর্ঘদিন পরে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এই সূবর্ণ সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করবে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জেনেছেন, ইতিমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্রে ভোটপ্রদান করেছেন, স্পষ্টভাবে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম উচ্চারণের সঙ্গে বাক্সে ব্যালট ফেলেছেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন।
সারা দেশ থেকে গত রাতে পাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে সেসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা তার কাছে আশাব্যঞ্জক বলে মনে হয়েছে। তিনি ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ সারাদিন ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রয়োগ করলে ইনশাল্লাহ যে-কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব।’