হোম > রাজনীতি

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল, প্রশ্ন এ টি এম আজহারের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে, সে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল; অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে। বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে। তাহলে এটা কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছেন, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রূপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন।’

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জানানোর জন্য আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেব কীভাবে। এই প্রেসিডেন্ট কে? তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। আওয়ামী লীগকে আমরা ফ্যাসিস্ট বলছি, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ কীভাবে পেল—আমাদের দেশের আইন আর ভারতের সরাসরি সহযোগিতায়। আজকে সে আওয়ামী লীগ ভারতেই পালিয়ে গেছে। সেই আওয়ামী লীগের তৈরি করা ফ্যাসিস্টের প্রেসিডেন্টকে আমি কীভাবে সমর্থন করতে পারি?’

সেই ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দল কীভাবে ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানায়, প্রশ্ন তোলেন আজহার। তিনি বলেন, ‘তাহলে কী আমরা ধরে নেব যে আপনারা কোনো ব্যক্তি, কোনো দল অথবা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান? শুধু তা-ই নয়, আমি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের মহিলা নেত্রীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং তাঁদের অনেক ভূমিকা আছে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যে তাদের সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছেন। কেন? এটা কি আপনাদের দৈন্যের কারণে? নাকি আপনারা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান, তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকতে চান? সে প্রশ্নের জবাব আপনারা দেবেন। এ প্রশ্ন জনগণের সামনে আছে।’

বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করে ‘নিরাপত্তা কার্ড’ প্রবর্তন করতে বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকারি দলের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে হেয় করার জন্য কথা বলছি না। একবার চিন্তা করেন। দেশপ্রেমিক বলি আমরা, গণতান্ত্রিক শক্তি বলি আমরা, কিন্তু আজকে আমরা এমপিরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি না। আজকে আমাদের আক্রমণ করা হচ্ছে, অনেক কর্মীকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’

জামায়াতের এই এমপি বলেন, ‘আমার এলাকায় সরকারি কাজ করতে গিয়ে অনেকে বিএনপির কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। এখনো ভয় দেখানো হচ্ছে। এ জন্য অনেকে হাসতে হাসতে বলে, এত কার্ড পাইলাম, এখন “নিরাপত্তা কার্ড”-এর ব্যবস্থা করেন।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন। আজহার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এ টি এম আজহার বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। যেকোনো মুহূর্তে আমার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতো। ঠিক সেই মুহূর্তে চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব বলি অথবা অভ্যুত্থান বলি, তার মাধ্যমে আমার মুক্তির পথ সুগম হয়। আমি এই জন্য জুলাই যোদ্ধা—যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উল্লেখ করে আজহার বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হঠাৎ করে হয়েছে, এটা যেমন ঠিক নয়; তেমনই জুলাই আন্দোলন সরকার পরিবর্তনের জন্য হয়নি। একটা সরকার যাবে, আরেকটা সরকার আসবে—এই আন্দোলন সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না। এটা পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল। পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল বলেই ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আমরা সুপারিশ দাঁড় করিয়েছিলাম। যার মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে এ টি এম আজহার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তিনটি কারণে। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি ঐক্যের রাজনীতি করেছিলেন এবং তিনি আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। তাঁর সাতই নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধিপত্যবাদমুক্ত হয়। খালেদা জিয়া, তিনি অমর হয়ে থাকবেন। তিনি বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি জনগণের কাছে খেতাব পেয়েছেন আপসহীন নেত্রী। তিনিও ঐক্যের রাজনীতি করেছেন।’

সংসদ সদস্য এ টি এম আজহার বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে, বিশেষ করে ১৬ বছরে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি কেউ নির্যাতনের স্বীকার হয়নি। আর অন্য কোনো দলের প্রধান নেতা থেকে সেক্রেটারি জেনারেলসহ ১১ নেতাকে জেলখানায় ফাঁসি দিয়ে এবং বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়? জামায়াতে ইসলামী প্রমাণ করেছে, তারা বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবাসে। তারা ভয় পেয়ে জীবন রক্ষা করার জন্য, সুন্দর জীবনযাপনের জন্য কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যায়নি। ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তবু দেশ ছাড়েন নাই। এ দেশের জনগণ জানে, কারা বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমি কারও ত্যাগকে অস্বীকার করি না, ছোট করে দেখতে চাই না। এমন কথা বলবেন না, যেটা জনগণ বিশ্বাস করে না এবং আমাদের মনে আঘাত করে।’

এ টি এম আজহার বলেন, ‘আপনি একদিকে ঐক্যের কথা বলবেন, আবার ঐক্য বিনষ্ট হয় সংসদে এ ধরনের কথাও বলবেন। আর পরবর্তী সময় আমাদের নসিহত করবেন যে আপনি এমন কথা বলেন কেন, যেটাতে ঐক্য নষ্ট হবে। আমরা তো শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার মুখে এমন কথা শুনিনি। আপনারা কি অস্বীকার করবেন, নিজামী সাহেবসহ আমরা যখন গ্রেপ্তার ছিলাম, তখন খালেদা জিয়া আমাদের মুক্তির দাবি করেননি? তাহলে কি আপনি বলবেন, উনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি বা দলের মানুষের মুক্তির আন্দোলন করেছিলেন? উনি ঐক্যের রাজনীতি চেয়েছেন। দেশ গঠন করতে হলে বিভক্তির রাজনীতির মাধ্যমে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।

হাওরাঞ্চলে ধান কাটায় সংকট, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান এনসিপির

এনসিপির ‘স্বেচ্ছাসেবক’ ও ‘কৃষক’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ মে মাসেই

৫ আগস্টের পর ঢাবি ক্যাম্পাস ছিল মব সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর: সাহস

মানুষের আইনের ‘কবর’ রচনা করে, কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াত এমপির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: ১২ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মিছিল

জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে: জামায়াত এমপি সাইফুল আলম

পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন—ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত আমির

ইইউ প্রতিনিধিদলের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

হঠাৎ অসুস্থ সারজিস আলম, হাসপাতালে ভর্তি

শিক্ষার্থীরা গুপ্ত রাজনীতি দেখতে চায় না: সংসদে বিএনপি হুইপ