হোম > রাজনীতি

১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি বিএনপির, আলোচনার আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংসদীয় বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে গিয়ে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয় বলে মনে করে বিএনপি। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘অনুচিত’ মন্তব্য করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। সংকট সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে অহেতুক ও দ্রুত সংসদীয় বিতর্ক রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু সরকারি দলকে ‘ফাঁদে ফেলার’ উদ্দেশ্যে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করা যায় না। কৃত্রিম বা ভাসা-ভাসা সমালোচনার পরিবর্তে-‘সুনির্দিষ্ট’ ও ‘বাস্তবসম্মত’ পরামর্শ নিয়ে এলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিরাজমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলো এখন চাপে রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা হিসেবেও উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন। বর্তমান সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান ও নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আরেকটি অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সিদ্ধান্তকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচি আরও কিছুদিন পরে হলে ভালো হতো। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারি দল থেকে রাজপথে পাল্টা কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। জনগণই এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভালো-মন্দ বিচার করবে। দেশের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আগের সরকারের সময় গণতন্ত্রের বিভিন্ন স্তম্ভ ধ্বংস এবং দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে সোলার সিস্টেম স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করতে কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কথা সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম মনি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ দিন বাংলাদেশ শিল্পকলায় এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন, ঠিক আছে; কিন্তু আপনারা একটা বিকল্প বলুন—আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।’

দলটির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’