জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন এবি পার্টি, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৫ জন নেতা। এসব রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মগুলোর শীর্ষ নেতা ‘আপ বাংলাদেশ’ এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সভাপতি রিফাত রশিদ ও এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আব্দুল হকও এর মধ্যে রয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব নেতাদের যোগদানের তথ্য জানান দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নতুন কর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ছাত্রদল হোক, ছাত্রশিবির হোক, ছাত্র অধিকার পরিষদ এমনকি ছাত্রলীগ হোক, কার কী সাবেক পরিচয়, এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আজ থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবে, সে এনসিপির নেতা–কর্মী হিসেবে কাজ করবে। এনসিপির আদর্শকে ধারণ করে কাজ করবে। কার কী সাবেক পরিচয় এটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। তবে কোনো ফ্যাসিজমে অংশগ্রহণকারী, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, গণহত্যাকে সমর্থনকারী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, সন্ত্রাস- এ ধরনের কোনো ব্যক্তি কখনোই এনসিপিতে আসতে পারবে না। এনসিপিতে থাকতে পারবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, আজকে যারা এসেছেন, আমরা মনে করি তারা আমাদের সঙ্গেই এত দিন ছিলেন। হয়তো প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। আজকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হচ্ছি এবং সারা দেশের তরুণদেরকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সকল বয়সী মানুষদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করুন, এনসিপিতে যোগ দিন, এনসিপিকে নানাভাবে সহযোগিতা করুন।
এ সময় নাহিদ ইসলাম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হলেও আসলে কিছুই বদলায়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপির সরকার প্রতিস্থাপন হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার তেলের সংকট নেই বলে দাবি করলেও পরে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি সরকারের একটি পরিকল্পিত কাণ্ড। সিন্ডিকেটের প্রভাবেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার জনগণের ভোগান্তি তৈরি করেছে।
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি, জনগণের আকাঙ্ক্ষা তথা সংস্কার বাস্তবায়ন, একটি সুন্দর বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা এবং গণহত্যাকারীদের বিচারসহ সব বিষয়ে একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে একটি সামষ্টিক বোঝাপড়া হচ্ছে। জনগণের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত সুন্দর রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করা আমাদের লক্ষ্য। আজকে তারই অংশ হিসেবে একাধিক প্ল্যাটফর্মের নেতারা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন।
এনসিপিতে যোগদানকারীরা হলেন- আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান এ রিফাত, শাহরীন সুলতানা ইরা, আয়মান রাহাত, রিফাত রশিদ, শাহাদাত হোসেন, ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক, সরদার আমিরুল ইসলাম (সাগর), হাসান তানভীর, তানভীর আহমেদ কল্লোল, হাসিব আল ইসলাম, এস.এম. সুইট, ওয়াহিদ আলম, জাহিদুর রহমান, মো. জসিম উদ্দিন, মো. মোশাররফ হোসেন, সুলতান মারুফ তালহা, তৌসিব মাহমুদ সোহান, ফারহানা শারমিন শুচি, সাজ্জাদ সাব্বির, পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ রায়হানুল ইস, আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আহম্মদ করিম চৌধুরী, দিলারা খানম, কাজী সালমান, শোয়েব হাসান রায়ান, মো. সুয়াইব হাসান, মুরাদ হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাঈদ মো. নোমান, ফায়াজ শাহেদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ, মোস্তফা কামাল মাহাথির, আরাফাত ই রাব্বি প্রিন্স, কাজী আহনাফ তাহমীদ, মো. শামীম, বদরে আলম শাহীন, মো. নাজমুল হক, মাসুমা বিল্লাহ (সাবিহা), ফারজানা আক্তার, তাওহিদুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, সাদাব মুবতাসিম প্রান্তিক, মহিউদ্দিন হাসান, মোহাম্মদ নুরুল হাসন আল মাহমুদ।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত এনসিপি গঠনের সময়েই দলটিতে থাকবেন বলে শোনা গিয়েছিল। তবে পদ-পদবির বিরোধে তারা সে সময়ে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে তারা আপ বাংলাদেশ গঠন করেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আপ বাংলাদেশ এনসিপির সঙ্গে জোট বাঁধার আলোচনা হলেও শেষমেশ সেই আলোচনাও ভেস্তে যায়। অবশেষে এনসিপি গঠনের এক বছর পর সাবেক এই শিবির নেতারা দলটিতে যুক্ত হলেন।