রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৬ নেতা-কর্মীকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান–১ এ পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মলের পঞ্চম তলায় ফুড কোর্টে অভিযান চালিয়ে এই ৬ জনকে আটক করে পুলিশ।
যাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—যশোর এম এম কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. নান্নু মিয়া (৩৮), যশোর চৌগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), যশোর চৌগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), চৌগাছার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রহমান (৪২), চৌগাছা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন (৩৩) ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সজল আহমেদ (২৯)।
বিকেলে ৬ জনকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান। তিনি প্রত্যেককে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় পুলিশ উল্লেখ করে, গ্রেপ্তাররাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আরও অনেক নেতা-কর্মী একত্রিত হয়ে নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ গুলশান থানা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও যড়যন্ত্রের জন্য সভা করছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে বাদীর এজাহারে বর্ণিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং জানা যায় যে, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতা। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছে।