আওয়ামী লীগের আমলে হওয়া গুমের সঙ্গে জড়িত অনেকে এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেছেন জামায়াতের এমপি (ঢাকা-১৪) মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৬ সালের ১০ আগস্ট রাতে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায় আরমানকে। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন গুম করে রাখা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাঁকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
আলোচনায় গুম হওয়া পরিবারগুলোর কথা তুলে ধরেন মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি তিনটি দাবিও তুলে ধরেন।
প্রথম দাবি, জবাবদিহি। যাদের গুম করা হয়েছে, তাঁরা এখনো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাননি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রয়োজন। অনেকে আাইনের আওতার বাইরে দাঁড়িয়ে দেশের ভেতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সর্বশেষ এই বিচার যাতে স্বচ্ছ হয়, ফ্যাসিস্ট আমলের মতো লোকদেখানো একটি নাটক যাতে না হয়।
দ্বিতীয় দাবি, পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। তৃতীয় দাবি, ঘৃণ্য এই মানবতাবিরোধী অপরাধ যাতে আর না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য দরকার শক্ত আইন, রাজনৈতিক দৃঢ়তা। গুম কমিশন কারও অনুমতি না নিয়ে তদন্ত করতে পারবে। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি আদালত) চলা মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্য দিচ্ছেন মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু শক্তিশালী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি; যারা এখনো ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিদ্যমান। আমাদের এই সাক্ষ্য তাদের বিশেষ অসুবিধার কারণ। আমাদের জীবনের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। যেমনভাবে জীবন দিতে হয়েছে আমাদের ভাই হাদীকে।’