আওয়ামী লীগ আমলে পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, বরং ষড়যন্ত্রকারীরা ফেঁসে গেছেন।
আজ শনিবার সোনারগাঁয়ে দলের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, সেদিন ‘তৌহিদী জনতার’ তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা আকুতি-মিনতি করেছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীকে রয়েল রিসোর্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হককে তখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
মামলার বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধ করতে ফ্যাসিবাদী সরকার মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব মামলা প্রত্যাহার করেছে।
সোনারগাঁ উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মাওলানা ইকবাল হোসাইনের স্মরণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মামুনুল হক।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে মামুনুল হক ও এক নারীকে অবরুদ্ধ করেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা রিসোর্টে গিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। এর ১৫ দিন পর মোহাম্মদপুর থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সময় তিনি ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে ঘটনার ২৭ দিন পর, ৩০ এপ্রিল, ওই নারী সোনারগাঁ থানায় হাজির হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।