জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তাঁর ‘পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।’ আজ রোববার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি আমাদের চেয়ে ১০ পার্সেন্ট ভোট বেশি পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে।’
তাহের আরও বলেন, ‘আমি শুধু একজন এমপি নই, আমি একজন মন্ত্রী। আমার গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকে, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা যদি অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বলে। আমি অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন দু-তিনবার কথা বলতে পারি। অতএব, আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।’
নিজ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, ‘এখানকার বিএনপি দাবি (চৌদ্দগ্রামের) করছে—এই এলাকার সকল উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই হবে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালে আমি এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। নির্বাচন অতিবাহিত হয়েছে মাত্র তিন মাস। এরই মধ্যে এলাকার উন্নয়নের আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি।’
তাহের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, টিকবে কি না?’ ডাক্তার তাহেরের এমন প্রশ্নে দর্শক সারিতে নেতা-কর্মীরা বলেন, টিকবে না। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলি নাই। আমরা চাই তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকুক। তারা ক্ষমতায় থাকলে এই বরাদ্দ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’
ডা. তাহের আরও বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবার। এই চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ছয় মাস সময় দিলাম—আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খোঁজেন। না হয়, ছয় মাসের পরও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বোঝা যাবে আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারির সংখ্যা বেশি না ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি? অবশ্যই ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ধরার জন্য আপনারা ঘর থেকে বের হবেন কি না? বের হলে সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। তাদের আর ছাড় নয়।’