যাদের কারণে আজ আপনি সরকার, তাদের গায়ে হাত দেবেন না—সরকারের উদ্দেশে এমনটি বলেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে জুলাই যোদ্ধাদের কারণে আজকে আপনি সরকার, সেই জুলাই যোদ্ধাদের চোখগুলো কেড়ে নেবেন না, হাত-পা ভাঙবেন না, এক ফোঁটা রক্ত ঝরাবেন না। যদি ঝরান, এটি হবে অবশ্যই চরম নিমকহারামি। জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি ব্যাংককের হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের দেখে এসেছেন, সেখানে এখনো কারও কারও সারা শরীর অবশ হয়ে পড়ে আছে। তার ভাষায়, ‘সেখানকার ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন, জীবনে তারা উঠে আর বসতে পারবে না। সেই লোকগুলোর কথা কেউ ভাববে না। ক্ষমতা আমাদের এ রকম অন্ধ বানিয়ে ফেলবে, দুনিয়ার স্বার্থ সবকিছু ভুলিয়ে দেবে, সব সত্য অবলীলায় শেষ হয়ে যাবে—এটা চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।’
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঠিক তালিকা এখনো হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, ‘৭১ সালে একজন ইনোসেন্ট মানুষ যদি মারা যায়, সেটার জন্য গোটা জাতি আমরা কষ্ট পাই, দুঃখ বোধ করি। মুক্তিযোদ্ধাদের যেটা আছে সঠিক হোক, বেঠিক কিছুটা আছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা নাই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘৬৫৬ জন নাকি ভাতা পায়, আমি শুনেছি। আশ্চর্য ব্যাপার, আমরা বলে বলছি এত লাখ, এত লাখ, তাহলে এত লাখটা রেকর্ড হচ্ছে না কেন? এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার আসল-গেল—সবাই দাবি করেন যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন?’
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘২৪-এর পরিবর্তনের আগে আমাদের কণ্ঠে, রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর থেকে আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির পর ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। আগে যে সমস্ত কথা বলেছেন, অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অনেকে এটা এখন বেমালুম ভুলে গেছে। তার ঠিক বিপরীতে গিয়ে এখন তারা ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন, বয়ান তৈরি করছেন।’
জনগণের অভিপ্রায় একটি গণতান্ত্রিক দেশে সর্বোচ্চ মর্যাদা পায় বলে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সেই অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গণভোট হলো, গণরায় হলো, ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিল। এখন সরকারি দল মানবে না। হ্যাঁ, মানবেন, অবশ্যই মানবেন। ইনশাআল্লাহ মানবেন। ইনশা আল্লাহ মানতে হবে।’