তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
নির্বাচনের আগে সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
লংমার্চের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আট দফা যে কোনো সময় জাতির প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার জনগণের সঙ্গে কথা দিয়ে কথা রাখে নাই।’
গণভোটের রায় সরকার মানেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংবিধানে গণভোট না থাকলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও সংবিধান মেনে হয়নি। জামায়াত আমির বলেন, ‘মানতে হলে সবটা মানতে হবে, আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।’
দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে এবং চাঁদা না পেয়ে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জে পথসভায় অংশ নিতে আসা কয়েকজন নেতা-কর্মী হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’
কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা হবে না—সরকারের এমন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে হেবা আইন পাস করা হয়েছে, যা তাঁদের মতে কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী। এ আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি ঘোষণা করে যে আগের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে এবং সেগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন শুরু করে, তাহলে লং মার্চের প্রয়োজন হবে না। তা না হলে আন্দোলন চলবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে—দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকারের স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তারা সবার আগে বাংলাদেশের কথা বলেছে, কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হচ্ছে। তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? কেন দিল্লির সঙ্গে তারা নেগোশিয়েট করতে পারছে না? কেন ভূরাজনীতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না? এটা থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে, তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, কেবল নিজের দলীয় স্বার্থ আদায়ের জন্য এগিয়েছে।
নাহিদ আরও বলেন, আমরা ওসমান হাদির বিচার পাইনি। কয়েক দিন আগে এক বিচারের রায় এসেছে, কিন্তু রায় তাদের জন্যই আসে, মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যই আসে—যারা দেশে! যারা দেশে অবস্থান করছে না, তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কেন আসে না? আমরা তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেখতে চাই, রায় কার্যকর দেখতে চাই!
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, তিস্তা নদীর পানি ও নদীশাসনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না হিন্দুস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হোক, কিন্তু হিন্দুস্তানেরও উচিত এটা চাওয়া যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হোক।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বসে সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দেশকে বাঁচাতে হলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাঁদের সঙ্গে বসেন।’