চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৯০ দিনের দৃশ্যমান কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ‘যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধান বা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে ৯০ দিনের মধ্যে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভার শুরু, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী দলগুলোর কাছে কার্যকর পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বানকে জামায়াত ইতিবাচকভাবে দেখছে। সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ গত ২১ মে থেকেই সরকারের হাতে রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার চেয়ে ওই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি এসপিএম দ্রুত কার্যকর, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল মনিটরিং এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের স্থায়ী ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
মহেশখালী ও পায়রার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) দিয়ে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। এলএনজি আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং পাইপলাইন সক্ষমতার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকারকে সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি অজুহাত না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। জরুরি ভিত্তিতে যেকোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত গ্যাসকূপ ওয়ার্কওভারের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার তালিকা এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন শেষ করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা ও পুনরায় উৎপাদনের সম্ভাবনা ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশ, পাইপলাইন না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি/এলএনজির মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার ব্যবস্থা বাড়ানো এবং ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সিস্টেম লস কমানোর দাবি জানায় দলটি।
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।