নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে আশঙ্কা ও অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এবং প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের ভূমিকাকে ‘স্বাধীনতাহীন’ ও ‘নতজানু’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে দলটি।
যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পরপরই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন—‘এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি’। সরকারের এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলা—‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না’—নির্বাচন কমিশনের চরম মেরুদণ্ডহীনতা ও পরাধীনতাকেই উন্মোচিত করেছে।
এনসিপি নেতারা বিবৃতিতে বলেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকবে—এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন আজ সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না এবং এটি পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সরকারের প্রভাবে ও চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে চরম খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম গ্যারান্টিও ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচিত হয়ে এসে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বদলে উল্টো দলীয়করণ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ইসিকে পকেটে পুরে ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনা করার এই অপচেষ্টা মূলত ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্যে সরকার তাদের দলের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করতে উদ্যত হয়েছে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো মেরুদণ্ডহীন ও সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে জনগণ মেনে নেবে না। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালিত করতে অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটে, তবে এনসিপি দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে।