বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরকে নিয়ে সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা। আর সে কারণেই তাঁকে এই পদে বসানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে, যাতে বৃহৎ অঙ্কের ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ তৈরি করা যায়। তাঁর ভাষায়, এতে আর্থিক খাতে নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী একবাক্যে বারবার বলেন, বিএনপির সময়ে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলার কোনো রেকর্ড নেই। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ, তাঁদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। তিনি অস্বীকার করলেন।’
টিআইবির প্রতিবেদন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সরকারদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশের ঋণ রয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি দলের। যাঁদের অধিকাংশই ঋণখেলাপি ছিলেন, নির্বাচনের আগে কিছু টাকা দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করে নিয়েছেন।’
নাহিদ বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা। এটাতে তিনি অভিজ্ঞ। ফলে তাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন করা হয়েছে তা পরিষ্কার। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ যাতে তিনি পুনঃ তফসিল করতে পারেন, সেই সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। ফলে আর্থিক খাতের আরও নিয়োগ তাঁরা কী বিবেচনায় দেবেন, তাঁদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।’
বাহাত্তরের সংবিধানকে ’৭১-এর সঙ্গে বিএনপি কোন বিবেচনায় মেলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছিল তো আওয়ামী লীগ। আমরা এর বিরোধিতা করেছি, বিএনপির বহু নেতাও বিরোধিতা করেছিলেন। মওলানা ভাসানী, বদরুদ্দীন উমরসহ আরও অনেকে বিরোধিতা করেছিলেন।’
নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, শুধু জামায়াত ’৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছিল বলেই কি বিএনপি আওয়ামী লীগের অবস্থানে চলে গেছে?
বাহাত্তরের সংবিধানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ’৭২-এর সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রচনা করেননি। ’৭২-এর সংবিধান রচনা করেছিল ’৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফওয়ের অধীনে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা হয়েছিল পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য। তখন থেকেই সংবিধানের সমালোচনা শুরু হয়েছিল।
নাহিদ বলেন, বাহাত্তারের সংবিধান উত্তরাধিকার সূত্রে অগণতান্ত্রিক। সে সময় শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্রের বীজ বাংলাদেশে বাহাত্তরের সংবিধানে বপন করা হয়েছিল। এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শে রচিত। ’৭১-এর সংবিধানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাহাত্তারের সংবিধান বাতিলের সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগ আমরা মিস করেছি। সম্মান রেখেই বলছি, জিয়াউর রহমান সেই ঐতিহাসিক ভুলটি করেছিলেন। চব্বিশেও সুযোগ এসেছিল। এখনো সুযোগ মিস করে যাচ্ছি।’ এ বিষয়ে বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে দাবি করে নাহিদ বলেন, ‘তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে গেলে, আমরাও আমাদের পূর্বের জায়গায় ফেরত যেয়ে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি জানাতে হবে।’