হোম > রাজনীতি

র‍্যাব বিলুপ্ত চাই, পুনরুজ্জীবন নয়: জেএসডির সাধারণ সম্পাদক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর সিরাজুল আলম খান সেন্টারে যৌথ সভায় বক্তব্য দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। ছবি: আজকের পত্রিকা

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলটির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেছেন, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নতুন বাহিনীতে বহাল রাখা কোনো প্রকৃত সংস্কার নয়। তাঁর ভাষায়, ‘র‍্যাব বিলুপ্ত চাই, পুনরুজ্জীবন নয়।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর সিরাজুল আলম খান সেন্টারে জেএসডি ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের নামে মূলত র‍্যাব-কেই নতুন নামে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা এ ধরনের নাম পরিবর্তনের সংস্কার মেনে নিতে পারি না। র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে গুরুতর অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, সেই বাহিনীর জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যদি নতুন নামে এসআরবি-এর মধ্যে বহাল থাকে, তাহলে এটি কোনো প্রকৃত সংস্কার নয়; এটি পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোর পুনরুজ্জীবন। র‍্যাবের নাম বদলানো নয়— র‍্যাবের ক্ষমতার সংস্কৃতি বিলুপ্ত করতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।’

বিশেষ করে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বিধানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিশেষ করে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বিধান আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। আয়না ঘর, গোপন আটক ও বন্দিশালার যে দুঃস্বপ্ন থেকে জনগণ মুক্তি চেয়েছে, নতুন নামে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব। তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্র রূপান্তরের লক্ষ্যে অংশীদারত্বের গণতন্ত্রকে সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে জেএসডি তার আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা হবে জনগণের অধিকার ও আইনের শাসনের অধীন; কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান জনগণের ঊর্ধ্বে থাকবে না।’

তানিয়া রব বলেন, ‘নতুন নামে পুরোনো ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস নয়, জনগণের সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা ও জবাবদিহিভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

সভায় বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাড. কে এম জাবির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ সিরাজ খান মিন্টু, জাতীয় যুব পরিষদের সভাপতি এস এম সামছুল আলম নিক্সন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন মন্টু, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, নুরুল আমিন, কামরুল আহসান অপু, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান, আজম খান, আনিসা রত্না, শফিকুল ইসলাম শফিক, আবুল হোসেন মিয়া, মাইনুল আলম রাজু, এস এম মনিরুজ্জামান মনির, আরিফা আকতার বেবি প্রমুখ।