বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমার এক্স আইডি (সাবেক টুইটার) হ্যাক করে গত কয়েক দিন ধরে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চায়, পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তারাই আইডি হ্যাক করে মিথ্যাচার করছে। ইতিমধ্যে আমাদের সাইবার টিম বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং আটকও করা হয়েছে।’
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। কোনো পরিস্থিতিতেই সংখ্যালঘু বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা সেই ভয় ভেঙে দিতে চাই।’ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতালপল্লিতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে আপনারা কি দেখেন নাই? তারা কি আমাদের ভাই-বোন না? তারা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদের কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাব। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।’
ঘরে ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। এখনি যদি মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশা আল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘নারীদের হুমকি-ধমকি আর গায়ে হাত দেওয়া বন্ধ করেন। এগুলো যদি বন্ধ না রাখেন, তাহলে মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল, সেভাবে তারা আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।’
শফিকুর রহমান বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়; বরং আজকে যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালান, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাঁর ছেলেরও যে মেধা আছে, সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী যেন বের হয়ে আসে। এভাবেই জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপসরফা হবে না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। মামলা-বাণিজ্য যারা করেছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী করা হবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে দক্ষ জনবল হিসেবে দেশে ও বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করবে। দেশ গড়ার ভূমিকা রাখবে।
জামায়াত আমির বলেন, এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হলে এখানে গবেষণা ইনস্টিটিউট অন্তর্ভুক্ত হবে। এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আম উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থ্যা নেই। তাই নায্যমূল্য বঞ্চিত হন চাষিরা। তাঁদের স্বার্থে এই অঞ্চলে একাধিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। প্রসেস ফুড রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সড়কটি চার লেনে করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটনশিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।