রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এখনো সঠিক ক্লু না মেলায় এবং পুলিশ, প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের বক্তব্যে গরমিল থাকায় হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের শাপলা চত্বরে জেলা ও মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর মাছুয়াপাড়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পরওয়ার বলেন, ‘এই নির্মম, নৃশংস, বর্বর, অমানবিক, পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে শোক-সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দারা একেক রকম কথা বলছে, গণমাধ্যমে এক রকম কথা দেখতে পাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ড কেন হলো, এটার ধোঁয়াশা এখনো কাটছে না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের দুঃখজনক ইতিহাস হলো, যারা কোনো অপরাধ করেনি, মামলা নেই, জীবনে হয়তো মিথ্যাও বলে নাই, এমন হাজার হাজার মানুষকে ধরে এনে ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে, গুলি করা হয়েছে, কারাগারে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো আমাদের গোয়েন্দারা করতে পেরেছেন। এখানে ডিজিএফআই আছে, এনএসআই আছে, এসবি আছে, ডিবি আছে, গভর্নমেন্টের বহু এজেন্সি এখানে আছে; কিন্তু এ রকম হত্যাকাণ্ড ঘটল, আজও তার কোনো সঠিক ক্লু বের করা গেল না?’
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘সরকারের ছয় মাসে ৫০০ থেকে ৫৫০ খুনের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা সরকারের দায়। যতই বলুন—আমরা এসেছি ছয় মাস। আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ছয় মাস তো কম সময় নয়। রাষ্ট্রীয় মেকানিজমকে কাজে লাগিয়ে সরকারের উচিত জনদুর্ভোগের ব্যাপারে নজর দেওয়া, জনজীবনকে স্বস্তিদায়ক ও স্বাভাবিক করে তোলা।’
জনদুর্ভোগের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনদুর্ভোগের তো কোনো শেষ নেই। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ সারা উত্তরবঙ্গ থেকে খবর আসছে, সারের প্রচুর সংকট চলছে। বেশি দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং, গ্যাস-সংকট, জ্বালানিসংকটসহ এত জনদুর্ভোগ, এত সংকটের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতি।