গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চুলা ও পাতিল নিয়ে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পল্টনের মুক্তাঙ্গন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে দলগুলো। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দলগুলোর নারী কর্মীরা হাতে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্যাসের চুলা ও রান্নার পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়াও কর্মসূচিকে ঘিরে ১১ দলের নেতা কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমবেত হন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে স্লোগান দেন তারা। অবস্থান কর্মসূচির কারণে পল্টন, বিজয়নগর, প্রেসক্লাব এলাকায় তীব্র যানজট হতে দেখা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা ‘জনদাবি’ তুলে ধরেন ১১ দলের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়াও প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। তারা মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
১০ দফা দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানায় জোট।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।