প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠকের সংবাদের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে! শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এটা অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন! তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওনাদের মহাসচিব বলেছেন সরকারের গত ৫ মাস বা ৬ মাসের কার্যক্রমে অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আযাদ।
অলি আহমেদের মনোনয়ন ফরমে প্রস্তাবক ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও সমর্থক ছিলেন এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হবে বলেও আশা করেন জামায়াত নেতা।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায়। ১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই, বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে জিতব, কি হারব —এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক এটা আমরা চায় না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমেদ সম্পর্কে জামায়াত নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।
তবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বাধা তৈরি করেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা ভোট দিতে পারবে না।’
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়ার কথা জানিয়ে আযাদ বলেন, ‘গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশ স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারার কারণে, গণতন্ত্রকে আবার সেই জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উনাদের গড়িমসির কারণে এই সংস্কারটা করছেন না। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছেন না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য যোগ্য প্রার্থী।’
সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে ভোট দিতে হবে।
নির্বাচনে কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, তিনি বিএনপির ছিলেন, পরে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ভবনে তিনি এখনো আছেন। ফলে ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এ অভিযোগ সত্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন, কামাল হোসেন, আবদুল বাতেন, জয়নাল আবেদিন, রাশেদুল ইসলাম, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার, এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাহমুদা মিতু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী।