হোম > রাজনীতি

সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘বৈঠকে’ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণায় জামায়াতের সমালোচনার জবাবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের ডেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তবে, আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আজকে কোনো বৈঠক ছিল না। যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান, ওনাকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম, উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি।’

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর।

নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে, বেলা ২টার পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন এবং বেলা ২টা ২৪ মিনিটে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সচিবালয়ে বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতের সমালোচনার জবাবে প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে এবং এই দল তাঁকে মনোনীত করেছেন। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে, সেটা কোনো মিটিং নয়, যেটা হয়েছে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আমাদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।’

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল না। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দল ও জোট থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে (আগস্ট) নির্বাচিত করতে চাই।’

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচিত হচ্ছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংসদ গঠন করেছি, সংসদে আজকে দেশের কার্যক্রম চলছে এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবাই পরিশ্রম করছেন। সবাই চেষ্টা করছেন ১৭ বছরের জঞ্জাল আমরা গত ৫ মাসে যতখানি সম্ভব তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, ভবিষ্যতে আরও করার চেষ্টা করব। তারই ফলে আগামী ২০ তারিখে আমাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে। কিন্তু আমরা মানব। সেই গণভোটটা আমরা পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা একটা আলাদা বিষয়। এটা নিয়ম রক্ষার কথাটা সঠিক না। হয়তো আপনারা বলতে পারেন তারা পরাজিত হবে জেনেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।’

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটার জন্য অপেক্ষা করেন, পরে শুনবেন।’

বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ; রকিবুল ইসলাম বকুল; মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু; আখতারুজ্জামান মিয়া; এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ; বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী, আবদুস সালাম আজাদ, ইমরান সালেহ প্রিন্স।