নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার মতো যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংগঠন ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ কোনো ধরনের ভয়, সংকোচ কিংবা চাপ ছাড়াই তুলে ধরার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব এম নাজমুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি গত সোমবার আত্মপ্রকাশ করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একটি গণমাধ্যমে উঠে আসা নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা গুরুতর অভিযোগ এবং আগে ক্রিকেটার জাহানারা আলমের অভিযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স বলেছে, বিভিন্ন সময়ে নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ ওঠা এবং বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্তে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ক্রিকেটসহ যে কোনো কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের মতো ঘটনা শুধু কর্মপরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং নারীদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স মনে করে, একজন নারী ক্রিকেটারের মূল্যায়ন হতে হবে অবশ্যই তাঁর যোগ্যতা, পরিশ্রম ও মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। কোনো ধরনের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড়ের ক্রীড়াজীবন নিয়ন্ত্রিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নারী ক্রিকেটারের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারী ক্রিকেটের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল মাঠের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক, বৈষম্যহীন ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এতে কেবল নারী ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, দেশের সব ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ও কর্মোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।