হোম > রাজনীতি

সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রশাসনের ভেতরেও একটি মহল সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা যাবে না।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ এই সভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এগুলো বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যায় ও দুর্বৃত্তপনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে।

বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ত্যাগের ফলেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল পটভূমি ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রিজভী বলেন, ‘নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে নিজের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ। তাঁর সেই আত্মদান এবং ৯ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল। সেই রক্তক্ষয়ী পথ ধরেই পরবর্তী সময়ে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা প্রবাহিত হয়েছে।’

রিজভী আরও বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান হুট করে একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন এবং প্রবাসে থেকেও দেশনায়ক তারেক রহমান যে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দূরদর্শী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে চব্বিশের জুলাই বিপ্লব।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দলটির আমলে সীমাহীন লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে। জনগণের আমানত বিদেশে পাচার এবং সম্পদ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী প্রশ্ন করেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করতে পারে। পূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপশক্তি যাতে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পরাজিত শক্তি নানা চক্রান্ত করছে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও টেকসই করতে একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ, অর্থনীতি সচল রাখা এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় বিএনপির নেতা খায়রুল কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শিরীন সুলতানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।