হোম > রাজনীতি

‘মহান’ সংসদের মর্যাদা বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, জামায়াত এমপির ভিডিও প্রসঙ্গে তাসনিম জারা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

তাসনিম জারা। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই নেত্রী।

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, ’সিভি অনুযায়ী তার (জামায়াত নেতার সঙ্গে থাকা মেয়েটির) বয়স মাত্র আঠারো। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো।’

সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি হওয়ার বিষয়ে এনসিপির সাবেক এই নেত্রী লিখেছেন, ‘এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব।

তো একদিন সিভিটা এমপি সাহেবের কাছে পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল, হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়।

সিভিতে সই পড়ল। জোর সুপারিশ করা হলো।

কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।

আর এই "জানি না"-টাই আসল কথা। কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।’

তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে তাসনিম জারা লিখেছেন, “সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি। কিন্তু এই প্রশ্নটা সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই। এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য।”

ক্ষমতাবানদের সইয়ে চাকরি হওয়ার ব্যবস্থা বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা?

প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। এই একটা জায়গায় সব দল একমত। কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।’

নির্বাহী পরিষদের বৈঠক ডেকেছে জামায়াত, বহিষ্কার হতে পারেন এমপি গাজী নজরুল

জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েও অবহেলিত শ্রমিকেরা: শিমুল বিশ্বাস

এনসিপি কার্যালয়ে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কর্নেল তাহেরের রাষ্ট্র রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে: জেএসডি

জিয়াউর রহমানের রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী

এনসিপির ৬ এমপির সংখ্যা আগামী দিনে ১৬০ হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারালে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী

ভারতের ছাত্র-যুব আন্দোলনে সংহতি জানাল ছাত্র ইউনিয়ন

এমপির ভিডিও বিতর্ক: তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল জামায়াত