বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি ছিলেন প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর চিন্তা, কাজ, দক্ষতা এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় মঈন খান এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘আজকে আপনারা আমাকে যার সম্পর্কে বলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তাঁর বিষয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে কি না—তা নিয়েই আমি ভাবছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিন কথা বলেও শেষ করা যাবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তাঁর শূন্যতা ও অবদান স্মরণ করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আজ আমরা কীভাবে আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন জানি না।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে মঈন খান বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একবার আমি তাঁকে বলেছিলাম, “আপনি কেন এসব মামলায় কোর্টে যান? ” তিনি বলেছিলেন, “ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না।” এই কথার মধ্যেই প্রকাশ পায় আইনের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কসুলভ মানসিকতা। এই কারণেই আমি দৃঢ়ভাবে বলি—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় অনেকেই সমালোচনা করলেও পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয়, তাঁর সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।’