হোম > রাজনীতি

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিরোধী দল

দেশের আর্থিক অবস্থা নাজুক, সবার ওপরেই প্রভাব পড়বে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

দেশের আর্থিক অবস্থা নাজুক বলে দাবি করেছে বিরোধী দল। তাদের আশঙ্কা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে সবার ওপর প্রভাব পড়বে। শনিবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন অভিমত দিয়েছেন কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান মিলন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাইফুল আলম খান জানান, দেশের নাজুক আর্থিক অবস্থা নিয়ে তিনি কমিটির বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে কল্যাণের পথে নিয়ে যাওয়া আমাদের কাজ। সেটা আমরা করেছি, সামনেও করব।...সরকারের উচিত সাবধানে পা ফেলা। এটা আমি বৈঠকেও বলেছি। আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে সবার ওপরই প্রভাব পড়বে।’

এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠকে সুপারিশ করা হয় সভায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ব্যাংকের পুরোনো এবং বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ রেখে আইনে পরিণত করা হয়। আইনটি পাসের দিন সংসদে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ধারা যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি করেছিল বিরোধী দল।

উন্নয়ন সহযোগীসহ সব মহলের আপত্তির মুখে ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারা বাতিল করে সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। সেদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এটা নিয়েই গতকাল বৈঠকে বসে কমিটি।

সাইফুল আলম খান বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে শুধু ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের ১৮ (ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাবটিই ছিল। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ দাবি তো সংসদে আমরা আগেই করেছিলাম। আইনের ১৮ (ক) ধারা বাতিলের কথা আগেই বলেছিলাম। এটা এখন সরকার বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আসছে।’

সাংবাদিকদের সাইফুল আলম আরও বলেন, ‘যত দূর বুঝতে পারছি, আমাদের অর্থমন্ত্রী দু-এক দিনের মধ্যে বাইরে (বিদেশে) যাবেন। এ কারণে উনি তড়িঘড়ি করে এটা করছেন। এটা আগামীকালের বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে পাস হয়ে যাবে। ধারাটি পরিবর্তনের বিষয়ে আমরা একমত।’

মিলন বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে অনেক অস্বাভাবিকতা রয়েছে। আমরা প্রসঙ্গক্রমে বলেছি, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের শেয়ার-সংক্রান্ত মামলার আইনজীবীকে পরিবর্তন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়েছে। তারা এরই মধ্যে আইনজীবী পরিবর্তন করেছে। ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বোর্ড—সবই এক ব্যক্তির ওপরে আছে। তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছি। সকলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আইনজীবীকে পরিবর্তন করা হয়েছে।’

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটি সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।