বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ অবস্থান নেওয়ায় দলটি নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এদিকে, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা করেছে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বিকেল থেকেই সেখানে পুলিশ অবস্থান নেয়।
বিকেল ৫টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশের বাধার কারণে তাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুনতে পেরেছি, তারা সেখানে কোনো প্রোগ্রাম করবে। সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নেই।’
পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে, সে জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘২০২৪ সালেও আমরা এ কর্মসূচি পালন করেছিলাম, কিন্তু এবার আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নেতারা ২০২৩ সাল থেকেই শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন। ২০২২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ জাসদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যায় না।’
শরীফ নুরুল আম্বিয়া আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি খুব ছোট। সেটাও তারা করতে দেয়নি। পুলিশ এসে বসে আছে। তারা আমাদের জানিয়েছে কর্মসূচি পালন করতে দেবে না। এতে আমাদের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ইচ্ছে করলেই তো বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায় না।’
এর আগে শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ জাসদ। এতে দলটি বলেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।’
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছে। রাজধানীর আরামবাগ অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে ১৪ আগস্ট থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশের মুখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সর্বসাধারণের চলাচল বন্ধ রেখে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে জলকামান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও সাদা পোশাকে পুলিশের সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। ২০২৪ সালে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।