সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পথ তৈরি করছে।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণভোটের গণ রায়কে উপেক্ষা করার পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার হীন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার উদ্দেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যা জাতির জন্য চরম উদ্বেগের।’ তিনি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের সাড়ে ৪ হাজারের অধিক ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা প্রায় ৩১১টি। অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর না হয়ে এখনো দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ‘নীলনকশা’।
জামায়াতের এই নেতা উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দুই মাসে ৭টি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসক বসানো ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার। আশ্চর্যজনক হলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথকে দীর্ঘ মেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।’
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ‘গভীর ষড়যন্ত্র করছে’ বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিতও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে দেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন করার কথা জানালেও বছরের চার মাস বাকি থাকতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় এখনো প্রশাসক বসানো অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এটি জাতির সাথে স্পষ্ট প্রতারণা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার নামান্তর এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের পথ তৈরির হীন কৌশল।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ‘নির্বাচন প্রলম্বিত করার উদ্দেশ্য’ থেকে সরে এসে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিও জানান তিনি।