প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করা দরকার। যদিও আমাদের দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। যে কারণে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে’।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘মানব পাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানব পাচারের মতো অপরাধ প্রতিরোধে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। দেশের মানুষকে একটি ন্যূনতম শিক্ষার ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষও প্রয়োজনের সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
রিজভী বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে সমাজে আইনের শাসন প্রয়োজন। অন্যদিকে শিক্ষার বিকাশও প্রয়োজন। জাতিকে একটি গড় শিক্ষার ওপর দাঁড় করাতে হবে।’
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নিরক্ষর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতারণা, শোষণ, সহিংসতা ও মানব পাচারের শিকার না হন।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে সচেতনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন, এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন রেজাউল করিম সোহাগ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক রতন মালো।
সেমিনারে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম) বাংলাদেশ এবং মানব পাচার রোধে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘কোটনেট’-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথক বিশ্বাস জয়ের নেতৃত্বে মানব পাচারবিষয়ক গম্ভীরা গান পরিবেশন করেন। পরে চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিল্পী এস এম রকিবুল হাসান বাঁশির সুরে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন।