হোম > রাজনীতি

১৪ ও ১৫ জুলাই ঘিরে ঢাবি প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি না থাকা দুঃখজনক: নাহিদ

ঢাবি প্রতিনিধি

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১৪ ও ১৫ জুলাইকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকা দুঃখজনক। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘স্মরণগাথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের রাজনীতি করতেই হবে। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি। এই রাজনীতি গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা ও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের কথা বলে।’

নাহিদ বলেন, ২০২৪-এর ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক ছিল। ওই হামলার পর সারা দেশের মানুষ আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ায়। পরে আবু সাঈদের শাহাদাত, কফিন মিছিল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও অন্য কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংকটের প্রতিফলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও একাডেমিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা এবং উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ১৫ জুলাইয়ের হামলায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে হামলায় মদদ দেওয়া বা বৈধতা দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিচার ও সংস্কারের প্রসঙ্গে নাহিদ অভিযোগ করেন, সরকার এখনো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মৌলিক সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। গুম, পুলিশ ও বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের পরিবর্তে সংশোধনের পথে যাওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের আপিলের সময় শেষ হয়েছে। দেশে ফিরলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা উচিত।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়নি। যারা একে ব্যর্থ বলতে চায়, তারা মূলত এই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করতে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। তাই গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য ধরে রাখার দায়িত্বও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।’

আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্য, বিচার, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বক্তব্য দেন।

গণভোটের ম্যান্ডেট অস্বীকার রাজনৈতিক প্রতারণা: জেএসডি

ঢাবিতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে দেরিতে শুরু ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠান, নাহিদের ক্ষোভ

আওয়ামী লীগকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে অনড় বিরোধীরা, জোরদার করবে আন্দোলন

১৪-১৫ জুলাই নারীদের সাহসী ভূমিকাতেই আন্দোলন গণ–অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায়: নাহিদ ইসলাম

ইনসাফের কথা বলারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ছোট করার চেষ্টা করেছে: সংসদে এমপি সরোয়ার

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

বন্যায় মানুষ কষ্ট করছে আর মন্ত্রীরা বিদেশ ভ্রমণ করছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ

স্টান্টবাজ শিক্ষামন্ত্রী আমরা চাই না: হাসনাত আবদুল্লাহ

চার মাসেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করতে না পারা সরকারের সক্ষমতার প্রশ্ন তোলে: ইসলামী আন্দোলন