হোম > রাজনীতি

সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী বলে সরকার গণ-অভ্যুত্থানের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে সরকার প্রকারান্তরে গণ-অভ্যুত্থানের বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। আজ সোমবার সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকাল রোববার সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা বর্জনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ হলো, যে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দাবি তৈরি হয়েছে, তাকেই অবৈধ বলে গণ্য করা। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে সংবিধানবিরোধী তকমা দেওয়া প্রমাণ করে, সরকার গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশে চলমান সামাজিক অস্থিরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে রাজনৈতিক বিশ্বাসহীনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বারবার অপূর্ণ থাকা, প্রতিশ্রুত সংস্কারকাঠামো গঠনে দীর্ঘসূত্রতা এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে। এই আস্থাহীনতাই সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি আরও বলেন, রাজনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে জন-আকাঙ্ক্ষাকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন হাসনাত কাইয়ূম। দাবিগুলো হলো—সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দেওয়া থেকে সরকারকে সরে এসে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী অবিলম্বে পরিষদ গঠন করতে হবে; সংস্কার পরিষদ গঠনের আগে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ চূড়ান্ত করা যাবে না এবং রাজনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধারে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকারগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সহসভাপতি হাবীবুর রহমান রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল ও নারীবিষয়ক সহসম্পাদক মনোয়ারা রহমান উপস্থিত ছিলেন।