হোম > রাজনীতি

১৮০ দিনে সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনায় বেড়েছে জনভোগান্তি: ১১ দলীয় জোট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আজ রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

১৮০ দিনে সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের ভোগান্তি ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং সরকারের প্রতি জন-আস্থা একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের এমন মূল্যায়নের কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেছেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত বাজে, নিরাপত্তা নেই। আমরা বিগত সময়ে শুনেছি, বিশেষত নির্বাচনের আগে, যে নির্বাচিত সরকার আসলেই...অন্যভাবে বলতে গেলে বিএনপির সরকার আসলেই, দেশে আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক হবে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত এই ছয় মাসে আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকার অথবা বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকেও ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে।’

রাজধানীসহ সারা দেশেই লোডশেডিং হচ্ছে এবং লোডশেডিং দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে প্রায় কয়েকশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একদিকে তো চাঁদাবাজির একটা ভোগান্তি তাদের রয়েছে, অন্যদিকে এখন তারা গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সার সংকট তৈরি হয়েছে, কৃষকেরা সার সংকটে ভুগছেন।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এমন, সরকার সেগুলো স্বীকার না করে বরং ১৮০ দিনের একটা সাফল্যমণ্ডিত চিত্র দেখানোর চেষ্টা করছে, যা একেবারেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। যে প্রতারণার রাজনীতি আমরা অতীতে আওয়ামী লীগকে করতে দেখেছি, এখন একই প্রতারণার রাজনীতি বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে করছে। ১৮০ দিনের এই ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত ছিল জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং বিরোধী দলসহ জনগণের কাছে সহায়তা কামনা করা। সেটা তারা না করে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।’

‘এর শুরুটা হয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে’—মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে এসে বলেছিলেন যে, তাঁর একটা পরিকল্পনা রয়েছে—দেশকে তিনি স্থিতিশীল করতে পারবেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারবেন। এখন দেখা যাচ্ছে যে, পুরো সরকারের ১৮০ দিন আসলে অব্যবস্থাপনায় ভরা।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ছয় মাসে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন মানে সরকারের পরিকল্পনা এবং হোমওয়ার্ক যথাযথ ছিল না। সরকারকে এই মন্ত্রিপরিষদ বারবার পরিবর্তন করতে হবে, কারণ বেশির ভাগ মন্ত্রীই তাদের কার্যক্রমে ব্যর্থ হবেন। এই সরকারের কাছে কোনো পরিকল্পনা নেই কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হয়, এবং তারা বিরোধী দলের কাছে পরিকল্পনা চাচ্ছে।’

এনসিপির এই নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের যে কমিটমেন্ট জনগণের প্রতি, সেই কাজ শুরু করা উচিত। এ ছাড়া সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করতেও আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসহীন’ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সরকার ভারত সফর করবে কি করবে না, এ বিষয়ে জনগণকে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে যে প্রেস ব্রিফিং করতে দেওয়া হলো, সেটার জন্য ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’

আওয়ামী লীগকে দিল্লিতে কার্যক্রম করতে দিয়ে, প্রশ্রয় দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি জানান, তাঁরা যেকোনো দেশের সঙ্গে মর্যাদা এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান। বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক যে সমস্যাগুলো রয়েছে—এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে এবং অন্যান্য যে নদীর পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে বাংলাদেশ-ভারতের নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।

নাহিদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের এই বিষয়ে সুরাহা, শেখ হাসিনার বিচার ও ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না বলে মনে করছে ১১ দল।

নাহিদ জানান, বৈঠকের মূল উপজীব্য ছিল ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, লং মার্চ আমাদের একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি—এখানে যদি কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা আসে, সেই বাধা আমরা সর্বাত্মকভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিহত করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

বৈঠকে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চারটি বিভাগ অভিমুখে ১১ দল ঘোষিত লং মার্চ কর্মসূচি শুরু হবে। ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লং মার্চ শুরু হবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে। ১৯ তারিখ ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে যাবে লংমার্চ। ৩১শে অক্টোবর খুলনা, কুষ্টিয়া হয়ে যশোর এবং ২১শে নভেম্বর রেলপথে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল।