জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আছে। ভারত সরকার গতকাল তাঁকে অডিওর মাধ্যমে সরাসরি একটি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ভারত।’
আজ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ অডিটরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া রাজবন্দীদের কারামুক্তির স্মরণে রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের আয়োজিত ‘জুলাই কারামুক্তি দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং অডিও কলের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের একটি ‘দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপ’। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী মুজিববাদের রাজনীতির ইতি ঘটেছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এই ফ্যাসিবাদকে নেবে না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানুষ জীবন দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই রাজপথে নেমেছিল। জীবন গেলে যাবে, কিন্তু হাসিনার দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হবে—এই প্রত্যয় থেকেই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
নিজের গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আখতার বলেন, ‘আবু সাঈদের গায়েবানা জানাজা থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর রমনা থানা ও শাহবাগ থানায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তখন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা আন্দোলনকারী ও সাধারণ পথচারীদের মারধর করে পুলিশের কাছে তুলে দিত।’
আখতার আরও বলেন, জুলাইয়ের রাজবন্দীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত মানবেতর। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি, আইনজীবী নিয়োগ বা জামিনের চিন্তাও করতে পারেননি। আহত অবস্থায় কারাগারে গেলেও অনেকেই চিকিৎসা পাননি। এমনকি যেসব শিশু আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদেরও প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে রাখা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সরকার বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।