গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে সংঘাত এবং এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটিও সংকটকে আরও জটিল করেছে।
রিজভী বলেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর একটি দেশের জন্য এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, শিল্পকারখানা চালু রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন।
রিজভীর দাবি, সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজও চলছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে শুধু সমস্যা তুলে না ধরে সংকট সমাধানের পথও দেখানো উচিত। গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা কর্মসূচির নামে দীর্ঘ সময় রাস্তা দখল করে রাখার হুমকি গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
রিজভী বলেন, গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়মের প্রভাবও বর্তমান সংকটে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মালিকানার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এ জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা জরুরি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির সহসাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শামিমুর রহমান শামিম।