হোম > রাজনীতি

জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণ করতে হবে: সিপিবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ঢাকার পুরানা পল্টনে শনিবার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৫১তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ে একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্বীকার করেই স্বাধীনতা-পরবর্তী তাঁর শাসনামলের নির্মোহ ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন করা জরুরি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৫১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।

সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক এম এম আকাশ, ডা. দিবালোক সিংহ, মঞ্জুর মঈন প্রমুখ।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘৃণিত ঘটনা উল্লেখ করে সভায় সিপিবি নেতারা বলেন, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয়তাবাদী ধারার প্রধান ও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান আবির্ভূত হন। ৬ দফা, পরবর্তীকালে ১১ দফা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রোথিত হয়।

একজন সম্মোহনী জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলে উল্লেখ করেন দলটির নেতারা।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ের সেই মোহ ক্রমশ ক্ষয় হতে থাকে। সদ্য স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক রূপান্তর, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং জনজীবনের নানা সমস্যার কারণে দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পায়।

সিপিবি নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর যে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যেই একটি প্রতিক্রিয়াশীল পটপরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের দাবি, ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক সম্পত্তিতে পরিণত করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তী তাঁর শাসনামলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্র পরিচালনা ও গণতন্ত্রের সংকোচনের ঘটনাবলিরও নির্মোহ মূল্যায়ন করতে হবে।

নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামরিক হস্তক্ষেপ, স্বৈরতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যে ধারার সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।