বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকটে জনজীবন ও শিল্প খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে, পোশাকশিল্প উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
আজ সোমবার গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন নাজিবুর রহমান। এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিং চলমান থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে চার মাস আগে মিটারভাড়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও এখনো তা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রিপেইড মিটারে ‘ডিমান্ড চার্জ’-এর নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে উঠেছে, যেটা ডিজিটাল চাঁদাবাজির নামান্তর, যা অবিলম্বে তদন্ত ও বন্ধ করা প্রয়োজন।
নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন, অতিরিক্ত বিল ও অবৈধ চার্জের অভিযোগ তদন্ত এবং শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নতুন গ্যাসকূপ খননের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করতে দুই থেকে তিন বছর চলে যাবে কাজ শুরু করতে। আমরা চলমান গ্যাস-সংকটকে সামনে রেখে অবিলম্বে জরুরি জাতীয় গ্যাস নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাসকূপ খননের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাই।’