সমস্যাটি সামান্য কি না, নিজেই ভেবে দেখুন। ইন্টারনেট যুগের এ সময়ে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু এলাকায় সেতু না থাকার কারণে এলাকাবাসী এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে পারছে না বছরের পর বছর ধরে। অদ্ভুত এ দেশে অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা। সেতুর কাজ শুরু হয়েছে; কিন্তু মাঝপথে এসে কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এ দেশে এ রকমটাই হয়—সড়ক আছে কিন্তু সেতু নেই, আবার সেতু আছে; কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক নেই। এ রকম সংবাদ মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায়। সে রকমই একটি খবর ‘মাঝনদীতে থমকে আছে সেতুর কাজ’ শিরোনামে সংবাদটি ছাপা হয়েছে আজকের পত্রিকায়।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদের ওপর কালনা-বিষ্ণুপুর সেতু নির্মাণকাজ প্রায় আট বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, অথচ এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ কাজ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, নদের পারের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করতে ও ভোগান্তি কমাতে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২৬২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে কার্যাদেশের মাধ্যমে কাজ পায় আইসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে। কিন্তু মেয়াদ শেষের প্রায় সাড়ে তিন বছর পরও কাজ শেষ হয়নি। শুরু থেকেই সেতুর নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছিল। এর মধ্যে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে দীর্ঘদিন লাপাত্তা।
প্রশ্ন হলো, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকি কে করবে? সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে লাপাত্তা হয়ে যায়? প্রায় তিন বছর এ রকম একটা অব্যবস্থা চলতে পারে?
দীর্ঘ সময়েও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুই পারের মানুষজন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। সেতু না থাকায় এলাকাবাসী নৌকায় চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারে না।
এ দায় কার? এ প্রশ্নটা আসা স্বাভাবিক। সরকার গ্রামীণ সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে, করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। কিন্তু এসব প্রকল্পের কাজ তদারকি করার দায়িত্ব যাঁদের, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রকৌশল অধিদপ্তর কী করে? একই সঙ্গে এসব দেখভালের দায়িত্ব তো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের ওপরও বর্তায়। কিন্তু সঠিক তদারকির অভাবে অনেক সময় সরকারি বাজেট পানিতে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদের ওপর কালনা-বিষ্ণুপুর সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে এটি চালু করলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। এখন কাজটি দ্রুত শেষ করা খুবই জরুরি।