সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের মতো হামে মৃত্যুর হার আর কোথাও নেই

ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুকদের আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল। তিনি এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাদ দেওয়া এবং হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত থাকার কারণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল করেছে বিএনপি সরকার। ফলে এখন ওষুধ কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে। সরকারের গৃহীত এ সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার দাবি অনেক দিন ধরেই ছিল। কারণ, ১৯৮২ সালের ওষুধনীতি শুধু রোগীদের জন্যই উপকারী ছিল না, আমাদের দেশের ওষুধশিল্প বিকাশেও তা কাজে লেগেছে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার একটা তালিকা করেছিল, যদিও আমরা তাতেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলাম না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অত্যাবশ্যক তালিকায় পূর্ণবয়স্কদের জন্য প্রায় ৫০০-এর বেশি ওষুধ আছে, আর শিশুদের জন্য আলাদা আরও বড় একটা তালিকা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, দেশভেদে এই তালিকা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু আমরা দেখলাম, অন্তর্বর্তী সরকার তার মাত্র অর্ধেকের মতো তালিকাভুক্ত করেছে, মন্দের ভালো হিসেবে সেটাও ছিল একটা অগ্রগতি। বর্তমান সরকার সেই তালিকা বাতিল না করে বরং তাকে আরও হালনাগাদ করার আলোচনা শুরু করতে পারত।

ওষুধ কোম্পানিগুলো যে যুক্তি দেয়, তালিকা প্রণয়নে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না, এটা ঠিক। কারণ, এখানে একটা স্বার্থের সংঘাত থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের কারণে তাদের মতামত প্রতিফলিত করে তালিকা করা যাবে না, এই কাজ করবে অন্য কেউ। তবে অন্যান্য বিষয়ে তারা একজন স্টেকহোল্ডার হিসেবে কথা বলতে পারে। জনস্বার্থে যেটা প্রয়োজন সেটাই আমাদের গ্রহণ করা উচিত।

সেই জায়গা থেকে বলব, বর্তমান সরকার এই তালিকা একেবারে বাতিল করে ১৯৯৪ সালের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ অন্যায় করেছে। এটা জনগণের স্বার্থের বিপরীতে গেছে। এমনকি যেসব ওষুধ কোম্পানি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা করতে চায়, তারাও এতে বিব্রত হয়েছে। যাঁরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে চান তাঁরাও বলছেন, আমরা তো তালিকা হালনাগাদের দাবি করেছিলাম, ভেবেছিলাম সরকার এটাকে যৌক্তিকভাবে এগিয়ে নেবে। কিন্তু হুট করে যা করা হলো, তা অনেকটা ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পুরো কোটাব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছিলেন, সেটার মতো হয়ে গেছে। ছাত্ররা তো পুরো বাতিল চায়নি, তারা চেয়েছিল সংস্কার। ঠিক তেমনি, ওষুধের তালিকারও দরকার ছিল হালনাগাদ ও আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।

সরকার আইনি বাধ্যবাধকতা এবং জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। সরকার আসলে কোন নৈতিক বলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

ওষুদের তালিকা নির্ধারণে ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো বিধান নেই। তবে অংশীজন হিসেবে এই ফোরামের বাইরে তাদের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অভিযোগ ছিল, তালিকা প্রণয়নের সময় জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তা করা হয়েছিল। কিন্তু তালিকা বাতিল করার সময়ও তো তারা একই কাজ করেছে। তখন তো উপদেষ্টা পরিষদ গঠিতই হয়নি। বাতিলের সিদ্ধান্তও যদি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হতো, তাহলে অন্তত একটা যুক্তি থাকত। এ বিষয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে। কারও সঙ্গে আলাপ না করে, এমনকি আদালতের বিচারাধীন মামলাকে বিবেচনায় না নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত হয়নি।

দেশে এমনিতেই উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। আগের তালিকায় এসব রোগের ওষুধ ছিল না। পুরোনো নীতি বহাল থাকলে এসব ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রায় কি বিপর্যয় নেমে আসবে না?

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সাল। আগের সরকার তা বাড়িয়ে ২০৩২ করেছিল, আর অন্তর্বর্তী সরকার তা ২০৩৫ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো, চিকিৎসা খরচ করতে গিয়ে মানুষ যেন একেবারে দেউলিয়া না হয়ে যায়। এই চিকিৎসা খরচের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যয় হয় ওষুধ কিনতে। এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্যই কিডনি, হৃদরোগ, ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধকে একটা নিয়ন্ত্রিত তালিকার আওতায় আনা হয়। তালিকাভুক্ত ওষুধের দামেও একটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। তালিকার বাইরের ওষুধের ক্ষেত্রেও দাম নিয়ন্ত্রণের আইন আছে, যাতে মুনাফার নামে যথেচ্ছভাবে দাম বাড়িয়ে ওষুধকে দুর্লভ করতে না পারে কেউ।

ফলে এই তালিকা বাতিলের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দরিদ্র মানুষের ওপর, যাঁরা সরকারিভাবে বিনা মূল্যে ওষুধ পান না, হাসপাতাল থেকে পূর্ণ ডোজের ওষুধও পান না, বারবার গিয়ে নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ওষুধ কেনা বন্ধ করে দেবেন। ফলে তাঁদের রোগ আরও খারাপ হবে এবং অসময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের চিঠির পরেই সরকার তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার কি সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়ে ওষুধ কোম্পানির মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়?

সরকার এই সিদ্ধান্ত ওষুধ কোম্পানির মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে নিয়েছে কি না, তা আমার সঠিক জানা নেই। এ বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও আমরা পাইনি। তবে ওষুধ কোম্পানির মালিকদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। কারণ, ওষুধ কোম্পানির মধ্যে যাঁরা যুক্তিপূর্ণ অবস্থানে আছেন, তাঁরাও এতে অবাক হয়েছেন। সরকারের উচিত ছিল সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমরা হালনাগাদের দাবি করলাম, আর সরকার হুট করে সবকিছু বাতিল করে দিল।

২০১৮ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের রিটের পরিপ্রক্ষিতে আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারকেই নির্ধারণ ও গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। সরকার কীভাবে আদালতের সেই আদেশ উপেক্ষা করে উৎপাদনকারীদের হাতে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারে?

অন্তর্বর্তী সরকারের করা ওই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাও গেজেটভুক্ত করা হয়নি। সে বিষয়ে মামলাও চলমান আছে। আর সেটা গেজেটভুক্ত না হতেই বাতিল করা হলো। অবশ্যই মূল্যতালিকা গেজেটভুক্ত করতে হবে এবং অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরের ওষুধেরও দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও প্রতিযোগিতার নামে এভাবে ঢালাওভাবে ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম বাড়ানোর নজির নেই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও নেই।

আমি চিকিৎসকদের প্রতিনিধি হিসেবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনেক সভায় গিয়েছি। আমরা বহুবার বলেছি, বিভিন্ন পত্রিকা, বৈজ্ঞানিক সেমিনারে আলোচনা হয়, একই জেনেরিক ওষুধে উপাদান যোগ বা বিয়োগ করে সেটাকে অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরে নিয়ে গিয়ে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। আর জনগণের মধ্যে প্রচার করা হয়, অমুক ওষুধে কাজ হয়, তমুকে হয় না, এটা তাদের মার্কেটিং কৌশল, যা মোটেও নৈতিক নয়। এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত জনবল দিতে হবে এবং স্বাস্থ্য খাতের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে কর্মী পাঠানো সম্ভবও না। গ্রামে গ্রামে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী ও ভলান্টিয়াররা আছেন। তাঁরা কীভাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা তৈরি করে তাঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যাতে তাঁরা অন্যান্য কাজের ফাঁকে এসব অনিয়মের তথ্য জানাতে পারেন। তাহলে এই অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এখন এই তালিকা রোধ করতে কী করা যেতে পারে?

এই সিদ্ধান্তের চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ জনগণ ও দরিদ্র-নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর। আমার মতে, অবিলম্বে ২০২৬ সালে প্রণীত তালিকাটির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুনর্বহাল করে গেজেটভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে এর সংশোধন-সংযোজন-বিয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হবে। উপদেষ্টা কমিটি, বৈজ্ঞানিক কমিটি, টাস্কফোর্স যা-ই হোক না কেন, গণমাধ্যমে আলোচনা এবং বিভিন্ন নাগরিক-অংশীজনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সেমিনার চালিয়ে যেতে হবে।

হামে শিশুর মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না কেন?

হামের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এর মূল কারণ আমাদের টিকাদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়নি। এতে ত্রুটি রয়ে গেছে। এটা সরকার শুরুতে স্বীকার করতে রাজি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে স্বীকার করেছে। এখন ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের টিকা দিতে হবে, আর বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৫ বছর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। সব জায়গায় সমানভাবে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। একটা জেলায় কম টিকা দিয়ে বাকি জেলাগুলোতে ৯০-১০০ শতাংশ দিলেও কাজ হবে না। কারণ, যেখানে ঘাটতি থাকবে সেখান থেকেই বিস্ফোরণের মতো হাম ছড়িয়ে পড়বে, যা ইতিমধ্যে ঘটেছে। তাই সব জায়গায় সুষমভাবে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিক বিষয়ে সরকারকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই কোথাও ত্রুটি হলে সরকারকেই এর জবাবদিহি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উপেক্ষা করেছে, সেটা মোটেও ঠিক হয়নি।

টিকার ঘাটতির কথা স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু?

এখানেই আমাদের সমালোচনা যে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ টিকা প্রয়োজন, তা আগেই মজুত রাখা উচিত ছিল। এলোমেলোভাবে কিছু টিকা দিলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এটা ভাবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না। শুধু তাই নয়, ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করতে হলে আরও অনেক বেশি টিকা প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে অবিলম্বে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জরুরি সহযোগিতা চাওয়া উচিত, যাতে দ্রুত টিকা আনা যায়। কারণ, হাম কমে গিয়ে আবার বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটেনি, বাংলাদেশেও ঘটেনি। তাই এটাকে জনস্বাস্থ্যের একটা জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে সরকারের উচিত শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ইউনিসেফ নয়, বরং টিকা উৎপাদনকারী কোরিয়া, ভারত, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ সব দেশের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চাওয়া। কারণ, বাংলাদেশের মতো হামে মৃত্যুর হার আর কোথাও নেই। প্রয়োজনে টিকার সিরিজ ব্যবহার করতে হবে এবং দেশে যে বিপুলসংখ্যক ভলান্টিয়ার আছেন, তাঁদের সক্রিয় করতে হবে। এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে আমরা একটা মহা কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।