হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

যদি ভাবনাগুলো সত্যি হতো

লাভা মাহমুদা

মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের আঘাত এমন ব্যাখ্যাতীত অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে যে মানুষ এতটা অসহায় বোধ আর কখনও করেনি।

বিচ্ছিন্নতার অদ্ভুত এক গোলকধাঁধায় দুনিয়ার মানুষ হতবিহ্বল। থমকে যাওয়া জরাগ্রস্ত জীবন, বাধ্যতামূলক সামাজিক বা শারীরিক বিচ্ছিন্নতা, অস্তিত্বের তীব্র সংকট, অনিশ্চিত জীবনযাপন, অর্থনীতির নিরঙ্কুশ ধস, একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজ হারানো, মানুষে মানুষে ব্যবধান...এমন অসংখ্য বাস্তবতার জন্ম দিল, যার জন্য গত ১০০ বছরেও মানুষের কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

গত এক বছরের বেশি সময়ে পৃথিবীর দেশগুলোর ভেতরের নড়বড়ে কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে। চিকিৎসাব্যবস্থার এতটা বেহাল দশা এই মহামারি না এলে জানা যেত না, ভ্যাকসিন নিয়ে এতটা রাজনীতি জানা যেত না, আরও জানা যেত না অনেক কিছু। অথচ নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করা দেশগুলোর কী আস্ফালন! কথায় কথায় পারমাণবিক বোমার হুংকার, মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধংদেহি মনোভাব, আরও কত কী!

রাজনীতিবিদেরা শুধুই রাজনীতি বোঝেন, মানুষ বোঝেন না। মানবিক মূল্যবোধ তাঁদের কাছে সত্যিকার অর্থেই গৌণ, যদিও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের কথা বলেই তাঁরা রাজনীতি করেন। আমেরিকা চীন রাশিয়ার মতো মহাশক্তিধর দেশই শুধু নয়, পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্র মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। হয়তো বা ধরনটা ভিন্ন। একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র রাজতন্ত্র বাদ থাকুক...গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা মানবিক কোনো তন্ত্রের নামেও শুধু শোষিত হচ্ছে এ পৃথিবীর মানুষ। কেউ কম, কেউ বা বেশি। এই যে রাজনীতি, এর নোংরা খেলাই পৃথিবীর আর সব নীতিকে খেয়ে ফেলেছে।

মহামারি তো পৃথিবীর ইতিহাসেই আছে, অগুনতি মানুষও মরেছে। সেই প্রচণ্ড নৈরাশ্য থেকে আবার জেগেও তো উঠেছে । কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়িতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোটি কোটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। প্রায় ফুরিয়ে গেছে সুপেয় পানি। উষ্ণায়ন বেড়ে উত্তপ্ত হয়েছে পৃথিবী। যুদ্ধের উন্মাদনা যত বেড়েছে, মানুষ ততই বিপন্ন হয়েছে। অভিবাসন সংকট আজ ভয়াবহ। শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, দেশহীন বাস্তুচ্যুত ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যাও আজ কোটি কোটি।

আগেও মহামারি থেকে সেরে উঠেছিল পৃথিবী। এবারও নিশ্চয় তার ব্যত্যয় হবে না। ভ্যাকসিন আসুক আর না আসুক, অনেক প্রাণের বিনিময়ে একদিন এই করোনা তাণ্ডব থেমে যাবে। শান্ত নির্মল ধরিত্রীতে আবারও প্রাণের জোয়ার বইবে—এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তবে জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকা পৃথিবীটাকে জোর এক ধাক্কায় জাগিয়ে দিল এই মহামারি।

মাটির পৃথিবীতে মানুষের অসহায়ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমরা গ্রহ-নক্ষত্র খোঁজার পেছনে ব্যয় করছি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। মাটি, পানি, আকাশ দখলের বিরামহীন প্রতিযোগিতায় ক্লান্তি নেই। অক্সিজেন ভেন্টিলেটরের অভাবে মানুষের মৃত্যু হয়; কিন্তু মঙ্গলের আকাশ লাল নাকি নীল, পানি আছে কী নেই—তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা, ব্যয় অযুত মিলিয়ন ডলার।

এ ধরিত্রী এতটা সহ্য করবে কেন? তাই আবারও হয়তো কোনো মহামারি বা অন্য কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে। আবারও অনেক মানুষের মৃত্যু হবে, অনেক মানুষ কাজ হারাবেন, আরও অনেক অনেক কষ্টকর দুঃসহ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটবে।

অথচ রাজনীতিবিদেরা মানবিক হলে এই যে এখনো বেঁচে আছি যে পৃথিবীতে, তা আরও সুন্দর মনোরম এবং বাসযোগ্য হতে পারত। খুব সহজেই তাকে বাসযোগ্য এবং সুন্দর করে গড়ে তোলা যেত। ভালোবাসা আর মমত্ববোধের এক চমৎকার আধার হতে পারত।

রাজনীতিবিদেরা যদি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করত এবং বলতে শুরু করত আজকের দিনটি থেকে কোনো হানাহানি যুদ্ধবিগ্রহ হবে না, কাউকে নির্যাতন করব না, জোর করে দখল করব না, বাস্তুচ্যুত করব না, মিসাইল ছুড়ব না, ধর্মীয় বা জাতিগত কোনো সহিংস আচরণ করব না, হত্যা করব না—তাহলে পরিবর্তন আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না। নিশ্চিত বদলে যাবে চমৎকার এই গ্রহখানি।

এসবই আমার অর্থহীন ভাবনা। জানি, এমনটা কখনোই ঘটবে না। এটাই নিয়তি। এই নিয়তিকে মেনে নিয়েই একদিন চলে যেতে হবে অসীমের পানে।

পথের শেষ কোথায়, খেয়াল নেই

জাতীয় নির্বাচন এবং দুটি কথা

বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

অনেক কিছুই নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর ওপর

আজকের জগৎটি অবিশ্বাস আর অনাস্থার

তিমিসমাজ যা শেখাতে পারে

ভ্যাপের বিরুদ্ধে আরও প্রচার প্রয়োজন

ফাটা বাঁশের চিপায় ইরান

ইরান সংকটের দ্বিপক্ষীয় রূপ

প্রবীণেরা আত্মহত্যা কেন করেন