হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

মার্ক টালি

সম্পাদকীয়

বিশিষ্ট ব্রিটিশ-ভারতীয় সাংবাদিক মার্ক টালি গত রোববার নয়াদিল্লিতে মারা গেছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক দুঃসংবাদ। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের খবর পরিবেশনের জন্য তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

১৯৭১ সালে যে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিকের নিরলস পরিশ্রমের কারণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ইয়াহিয়া বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার কথা বিশ্ববাসী জানতে পারে, মার্ক টালি ছিলেন তাঁদেরই একজন। মার্ক টালির কথা বলতে গিয়ে আমরা একই সঙ্গে সায়মন ড্রিং, অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, সিডনি শনবার্গ, নিকোলাস টমালিনের কথা বলতে পারি।

বিশ্বজুড়ে আরও অনেক সাংবাদিক তখন পাকিস্তানের বৈরিতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের সবাইকে স্মরণ করি। এই অকুতোভয় সাংবাদিকেরা বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনমনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রশ্রয়ে যখন বাংলাদেশ যুদ্ধটাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন এই সাংবাদিকদের বলিষ্ঠ সাংবাদিকতা এই যুদ্ধের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল।

মার্ক টালি বিবিসির খ্যাতিমান সাংবাদিক। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে ৩০ বছর কাজ করেছেন। এর মধ্যে নয়াদিল্লিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ করেছেন ২০ বছর। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চলেনি, সবকিছুই স্বাভাবিক আছে—এ রকম একটি প্রচার চালানোর জন্য পাকিস্তান সরকার মে মাসে আটজন পাকিস্তানি সাংবাদিককে ঢাকায় পাঠিয়েছিল। তাঁদেরই একজন ছিলেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। মাসকারেনহাস ঢাকায় এসেই বুঝতে পারলেন, এখানে গণহত্যা চলেছে। লন্ডনের সানডে টাইমসে তাঁর বিখ্যাত ‘জেনোসাইড’ রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় ১৩ জুন। আন্তর্জাতিকভাবে এই রিপোর্ট ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিবিসির মার্ক টালি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে অনবদ্য সাংবাদিকতা করেন, তা আলাদাভাবেই স্মরণ করতে হয়।

১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকায় থাকা ২০০ বিদেশি সাংবাদিককে বহিষ্কার করার পর এপ্রিল মাসে প্রথম যে বিদেশি সাংবাদিকদের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তাঁদের প্রথম দলেই ছিলেন মার্ক টালি। মোটামুটি সারা দেশে অবাধে ভ্রমণ করার অনুমতি তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। মার্ক টালি সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটা তিনি দেখেছেন। রাজশাহীতে গিয়ে দেখেছেন রাস্তার পাশের প্রতিটি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে ইয়াহিয়ার সেনারা। গ্রামবাসীদের বলপ্রয়োগে গ্রামছাড়া করা হয়েছে।

মার্ক টালি খবর সংগ্রহ করে বিবিসিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। এ কথা বলা অন্যায় হবে না, সাধারণ মানুষ তখন বিবিসিকেই বেশি বিশ্বাস করত। বিবিসির বিশ্বাসযোগ্যতার কারণেই পাকিস্তানিরা বিবিসিকে বলত, ‘ভারত ব্রডকাস্টিং করপোরেশন’ অথবা ‘ব্রিটিশ বকোয়াস করপোরেশন’। কিন্তু তাতে বিশ্ব জনমত মোটেই বিভ্রান্ত হয়নি। বরং পাকিস্তানিদের মিথ্যাচার বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করে মার্ক টালি তথা বিবিসি সারা বিশ্বেই সুনাম কুড়িয়েছে।

মার্ক টালি আরও অনেক বড় বড় বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। তবে আমরা তাঁকে বিশেষভাবে মনে রাখব একাত্তরে বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য। তিনি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের এক অনিবার্য সৈনিক। তাঁর প্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধা।

বাংলাদেশে বইমেলার অর্থনীতি

সৌরবিপ্লবের বিচ্যুতি একটি পরিকল্পিত বাধা

কানে ধরা

একটি পরিবার, রাষ্ট্র ও ভেঙে পড়া মানবতা

সরিষা ও মধু: গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন স্বপ্ন

বাগ্‌যুদ্ধে সব অভিযোগই কি সত্যের অপলাপ

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কতটুকু প্রভাব, কতটুকু বাস্তবতা

ইশতেহারে কি প্রবীণ ভোটারদের কণ্ঠস্বর থাকবে

‘আমরা যদি বড় হতাম...’

পরিবর্তনের জন-আকাঙ্ক্ষা এবং পূর্ববর্তী ঘটনার জের