হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

এখনো চলছে

সম্পাদকীয়

ঘটনাটি কয়েক দিন আগের। আজকের পত্রিকায় তা দেখা গিয়েছিল ১৫ জানুয়ারি। অদ্ভুত ধরনের এক সংবাদ। শিরোনামটা ছিল এমন: ‘মব’ করে ইউপি চেয়ারম্যানকে হেনস্তা, গ্রেপ্তারের পর জামিন।

বিষয়টি সামনে আনতে হলো এ কারণে যে জানতে ইচ্ছা করে—জুলাই-আগস্টকে সম্বল করে আর কত দিন যা ইচ্ছা তা করার অধিকার বজায় থাকবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের? সততার শক্তি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু ইচ্ছা হলেই যে কেউ ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে যে কাউকে হেনস্তা করার লাইসেন্স কি পেতে পারেন? ইচ্ছা হলেই যে কাউকে তাঁরা থানায় সোপর্দ করতে পারেন? আর কত দিন এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেখতে হবে?

সিলেটের জকিগঞ্জে সমন্বয়ক পরিচয়ে কয়েকজন যুবক হেনস্তা করেছেন মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে। এরপর তাঁকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। এই খবর যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিক্ষুব্ধ জনতা এসে জড়ো হয় উপজেলা পরিষদ এলাকায়। সমন্বয়ক পরিচয়ধারীদের কয়েকজনকে সেখানে পেয়ে ধাওয়া দেন তাঁরা। সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী একজনকে হেনস্তা করে জনতা। দফায় দফায় ইউএনওর সঙ্গে বৈঠক চলতে থাকে। এরপর অবস্থা সুবিধার নয় দেখে সমন্বয়কদের উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। আটক আবদুস শহীদ পরে জামিন পান।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গতকাল রাতে এই ঝামেলা হয়েছিল। তখন আমি উপজেলা পরিষদে ছিলাম না। পরে এসে ঘটনাটি দেখি। সবাইকে নিয়ে বসে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। এখন এটি আইনের গতিতে চলবে, আর কেউ কোনো ঝামেলা করবে না।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বলা এ ধরনের কথাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আইন তো আইনের পথেই চলবে।

হঠাৎ কোনো ‘সমন্বয়ক’ কোথাও নাজিল হয়ে নিজের মতো করে যদি আইন তৈরি করতে চায়, তাহলে সেটি তো বিপদ। আইনবিরোধী পথকে যেকোনো নামে আখ্যা দেওয়া হোক না কেন, সেটাকে তো আইনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এটা কখনোই চাপ প্রয়োগের আদর্শ পথ হতে পারে না। প্রশাসনের ক্ষমতাকে খর্ব করে কেউ যদি নিজেই আইনের ঝান্ডা বরদার হয়ে যায়, তখন তাতে অরাজকতাই সৃষ্টি হয়, আর তো কিছু নয়।

এখনো দেশের যেসব জায়গায় আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছে কিছুসংখ্যক মানুষ; তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জুলাই-আগস্টকে নিজ স্বার্থে কেউ ব্যবহার করতে চাইছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কিছুদিন আগে একজন পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে মারা-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে দেশের মানুষ মর্মাহত হয়ে পড়ে। যে তরুণ সেই ঘটনা বীরত্বের সঙ্গে বলছিলেন, তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে পুলিশের অফিসে বসে তিনি পুলিশকেই হুমকি দিচ্ছেন! আর এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পরও তাঁর কোনো বিচার তো হয়ইনি, বরং তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উদাহরণ যখন চোখের সামনে থাকে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর করে তোলা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। বেআইনিভাবে কেউ কর্তৃত্ব ফলাতে চাইলে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এই জুলুমবাজি কমতে পারে।

গ্যাস নিয়ে অন্তরালের সখ্য ও বিপর্যস্ত জ্বালানি খাত

পদের বিপরীতে যোগ্য লোক

স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের অবিনাশী নাম

জাতিসংঘ কি জেগে আছে

এলপিজির কারসাজিতে অসহায় জনগণ

আধুনিক নগরসভ্যতার অভিশাপ বায়ুদূষণ

প্রযুক্তির সুনিপুণ ব্যবহার

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে

নির্বাচন বড় মজার জিনিস

অর্ধনির্মিত সেতু