তর সইল না। মাত্র কয়েকটা দিন কোয়ারেন্টিনে থাকলে নিজে নিরাপদ, অন্যেও নিরাপদ। এটা জানা থাকলেও হোটেল থেকে পালিয়ে আত্মীয়কে দেখতে গেলেন যুক্তরাজ্য থেকে আসা এক প্রবাসী পরিবার। খবরটা জেনে নিয়ে সক্রিয় হলো পুলিশ। পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হলো হোটেলে। ভ্রাম্যমান আদালত এসে জরিমানা করল প্রাপ্তবয়স্কদের। জরিমানার হাত থেকে বেঁচে গেল শিশুরা।
সিলেটের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসী এই পরিবারটি কেন এতটা অসচেতন হলো? কেন বুঝতে চাইল না, তাদের কারও যদি কোভিড সংক্রমণ থাকে, তাহলে তা ছড়িয়ে যেতে পারে জন থেকে জনে? এ বিষয়ে তো এখন রেডিও–টেলিভিশন–পত্রিকা, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বলা হচ্ছে, লেখা হচ্ছে বিস্তর। তারপরও কেউ এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে?
কোভিড সংক্রমণ আবার বাড়ছে। গোটা পৃথিবীতেই বাড়ছে। গা–ছাড়া ভাব নিয়ে যারা সময়টা পাড়ি দেবে বলে ভেবেছিল, তারাও এখন একটু সচেতন হয়েছে। অনেকের মুখেই ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া মাস্ক। অনেকেই পকেটে রাখছেন স্যানিটাইজার। না রেখে উপায় নেই। সবখানেই রটে গেছে, এই যুক্তরাজ্যের স্ট্রেইনটি অনেক শক্তিশালী। এর পাল্লায় যে পড়বে, তার ধকলের সীমা–পরিসীমা থাকবে না।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে এসেছিলেন ১৫২ জন যাত্রী। এদের মধ্যেই ছিলেন পালিয়ে যাওয়া একই পরিবারের নয়জন। সিলেটের নির্ধারিত হোটেলেই সবমিলে ১৪৭ জন ছিলেন কোয়ারেন্টিনে (বাকি পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে)। সাত দিনের এই কোয়ারেন্টিন ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু তর সইল না। সাত দিনকে তাদের হয়তো মনে হয়েছে সাত শ বছর। তাই জকিগঞ্জে থাকা অসুস্থ আত্মীয়কে দেখার জন্য তারা বেরিয়ে গেলেন কোয়ারেন্টিন ভেঙে।
যা বুঝতে পারা যাচ্ছে না, তা হলো জকিগঞ্জের অসুস্থ আত্মীয়টিও যে তাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হতে পারেন, এ কথা বোঝার মতো একজনও কি ছিলেন না নয় সদস্যের এই প্রবাসী পরিবারে? জকিগঞ্জের আরও মানুষকেও তারা সংক্রমিত করতে পারতেন।