হোম > জাতীয়

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি। আমাদের সবার গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সনাতন ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় তিনি এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর, অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

এই প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে’ কংসের’ মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ‘কংস’রূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।

তারেক রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে, এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ বা আমেরিকায় গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। তাই রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্ম, বর্ণ বা দলের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

আবহমানকাল থেকেই এ দেশে সব মানুষ মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা সমাজে বিভেদ-বিরোধ জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব রটানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। দেশে কোনো রকমের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতার কারণ হতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ডসহ সব ধর্মের গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানের মতো যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যা সাধ্য অনুযায়ী দল-মত নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ —বর্তমান সরকার ও বিএনপি এই নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে আগাম শুভেচ্ছা জানান।