রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের বয়স পাঁচ মাসের মাথায়ই রাষ্ট্রপতির বিদায়ের বিষয়টি সামনে এল।
বঙ্গভবনের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে তিনটি পৃথক সংবেদনশীল সূত্রের বরাতে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। আর আজই স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজে বলেছিলেন, সংসদ নির্বাচনের পর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি দায়িত্ব পালন করে গেছেন, তবে নির্বাচনের পর পদ ছাড়তে আগ্রহী।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হলো রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি এই পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—মেয়াদ শেষ হওয়া, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করা কিংবা গুরুতর কোনো অসদাচরণজনিত কারণে অভিশংসিত হওয়া।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই পদটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে বা মেয়াদের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পর থেকে এই নিয়ম চালু রয়েছে।
যোগ্যতা: কোনো ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
পরিচালনা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এ নির্বাচন পরিচালনা করেন। তিনি স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
মনোনয়ন: সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবক ও সমর্থক প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে দুজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন—একজন থাকবেন প্রস্তাবক এবং অন্যজন সমর্থক।
ভোটাভুটি: সংসদ অধিবেশন চলাকালে এই ভোটগ্রহণ করা হয়। যদি একাধিক প্রার্থী না থাকেন, তবে একক প্রার্থীকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
সময়সীমা: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ সমাপ্তির পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অথবা পদ শূন্য হওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
যদি নির্বাচন করার প্রয়োজনীয় সময়ে সংসদ অধিবেশন না থাকে, তবে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।