স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি আইন রয়েছে, সেগুলোর কোনোটিতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই যারা আগামীতে প্রার্থী হতে চান, তাদের অনুরোধ করব-আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।’
আজ রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর জন্য যেমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই, তেমনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।
তবে বয়সসীমা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভোটার হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স অন্তত ২৫ বছর হতে হবে।
সংসদ সদস্যদের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এমপি (জাতীয় সংসদ সদস্য) পদের জন্যই কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্দিষ্ট করা নেই। এমনকি আমি নিজে যখন এমপি পদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম, সেখানেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা ছিল না।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইন বা সংবিধানে এমন শর্ত নেই। যেহেতু সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই, তাই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও আমরা তা রাখিনি। কারণ, এমন শর্ত দিলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সমাজসেবক প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেয়েও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। কোনো দিন স্কুলে না গিয়েও আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের কারণে তার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষা করতেই সংসদ সদস্য নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এই বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।