হোম > জাতীয়

তিন বছরেও শেষ হয়নি দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

দেশের হাজার কোটি টাকা পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রায় তিন বছর আগে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্তদের সবাই দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পরও অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি।

অনুসন্ধানের নামে কালক্ষেপণকে আইনের ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের দিক থেকেই সরাসরি এসব দেখভাল করা উচিত ছিল। তাহলে এই অনুসন্ধানগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হতো। কমিশন থেকে সেরকম কোনো তদারকি নিশ্চয়ই হয়নি, না হলে তো (অনুসন্ধানে) এত ধীর গতি হওয়ার কারণ নেই। এটা খুবই হতাশাজনক।’

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা হলো ৫ বা ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতি, যার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় কোনো স্পনসর ছাড়াই দেশটিতে বসবাস, ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে পারেন।

অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদক থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে গতি আনতে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে দুদক। তবে এই তিন বছরে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৫৯ বাংলাদেশি দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। পরে দুবাইয়ের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক সুবিধা গোল্ডেন ভিসা নিয়ে তাঁরা সেখানে ৯৭২টি প্রোপার্টি বা সম্পত্তি কিনেছেন।

দুদক সূত্র বলেছে, অভিযুক্ত ৪৫৯ ব্যক্তির নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের বিবরণ, বিদেশে অর্থ পাঠানোর তথ্য, সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর/এসটিআর) এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পত্তিবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। এরপরই বিষয়টি নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং দুদকের কাছে অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পড়ে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত বছর ৪৫৯ জনের তালিকা থেকে ৭০ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে তাঁদের আয়কর, সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেয় দুদক। তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংক লেনদেনের তথ্য অপরিহার্য হওয়ায় এবার বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচারের মামলায় শুধু সম্পদের তথ্য নয়, অর্থের উৎস, ব্যাংকিং চ্যানেল, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কার্যক্রমের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বিএফআইইউর তথ্য অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুদক সূত্রের দাবি, বিএফআইইউ থেকে চাওয়া তথ্য হাতে এলে ৪৫৯ জনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাবে। অভিযোগের প্রমাণ মিললে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ: ভাঙা মনোবল চাঙা করা যাচ্ছে না ১০ কারণে

প্রশাসন: অস্থিরতা কাটেনি, যোগ হয়েছে অবসর-আতঙ্ক

সংস্কারের প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ

খাদ্য উৎপাদকের অর্ধেকের বেশি নিম্ন আয়ের ক্ষুদ্র কৃষক

কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে মানব পাচার সম্পূর্ণ দমন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি নিয়ে রুল

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার ও এনআইডি নিবন্ধন সেবা চালু

কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং বন্ধ করতে নোটিশ

ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটে বিধ্বস্ত জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় দুয়ার খুলতে পারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির