বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেছেন, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সময় দিতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিলে বর্তমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
আজ শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত ‘মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বাচ্চা যখন জন্মগ্রহণ করে, তারপরেই যদি তাকে আব্বা ডাকতে বলা হয়—কোনো দিন তা সম্ভব হবে? বাচ্চাকে সময় দিতে হবে, বড় করতে হবে; যখন বাচ্চা বড় হবে, তখন সে অটোমেটিক আব্বা ডাকবে। ঠিক তেমনি, বর্তমান সরকারকেও পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।’
ধর্মমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিলে ইনশা আল্লাহ বর্তমান অবস্থা থাকবে না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথে কাজ করে যাওয়া এবং সরকারকে সময় ও সহযোগিতা প্রদান করলে দেশের সব সংকটের সমাধান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী এই ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর মহান জীবন-আদর্শ এবং ইসলামের শান্তি ও কল্যাণময় বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৮ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার ও আওয়ামী লীগীকরণ করা হয়েছিল। অতীতের মুজিববাদী প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সর্বপ্রকার অন্যায় ও অবিচার চিরতরে দূর করতে হবে। কোনো হালাল কাজের জন্য যেন কাউকেই এক পয়সাও দিতে না হয়, সেভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালেও ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অন্য কোনো সরকার উদ্যোগ না নিলেও তিনি দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকার ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান। ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দেশি-বিদেশি মোট ২০৬টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।