‘সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা। সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত অন্তর্নিহিত রূপ ও মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটে। আমাদের ভূখণ্ড গান, ধান আর নদীর দেশ। এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে আমাদের পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।’
আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিগত দিনগুলোতে একটি সর্বগ্রাসী ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে তছনছ করে এক চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী স্বৈরশাসন দেশের নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। এমনকি গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষাব্যবস্থাকেও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক দর্শন এবং ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, নজরুলকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু নজরুল ছিলেন সর্বহারা ও শোষিত শ্রেণির কণ্ঠস্বর। তাঁর দ্রোহ ও কবিতা চিরকাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে উদ্বুদ্ধ করবে।
একই সঙ্গে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লি উন্নয়নে তাঁর অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন। সমতল ও পাহাড়ে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী রয়েছে। এই বৈচিত্র্যকেই দেশের শক্তি বলে অভিহিত করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গুণী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।