দেশে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধ এবং মাদক কারবার ছড়ানো রুখতে ডগ স্কোয়াড গঠন, পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট হ্যাকিংয়ের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাদণ্ড নির্ধারণ এবং বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চারটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ খসড়াগুলোর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় অনলাইন ও অফলাইন মাধ্যমে এটি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। তাই জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ কমানো এবং মানসিক-আর্থসামাজিক ক্ষতি প্রতিরোধে আগের আইনকে হালনাগাদ করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন আইনে ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, ডিজিটাল সম্পদ, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণ এবং বাজিকরসহ জুয়াসংক্রান্ত আধুনিক সব বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
শাস্তি: অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বিবেচনা করে এই আইনে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড ও উভয় দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
মাদকের পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করতে ২০১৮ সালের মূল আইনটিতে বেশ কিছু ধারা সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।
মাদক দমনে ডগ স্কোয়াড: মাদকদ্রব্য খুব সহজেই যাতে শনাক্ত করা যায়, সে জন্য নতুন আইনে ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ করে সাইবার স্পেস বা অনলাইন ব্যবহার করে সংঘটিত প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ দমনে বিশেষ বিধান আনা হয়েছে। এ ছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধ ও আন্তসংস্থা সমন্বয়ের বিষয়গুলো জোরদার করা হয়েছে।
পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জাল সনদ তৈরি রুখতে ১৯৮০ সালের একটি আইন বিদ্যমান থাকলেও বর্তমান ডিজিটাল যুগে তা সময়োপযোগী ছিল না। তাই অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ ও তার দণ্ড নিশ্চিত করতে এই সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রেজাল্ট হ্যাকিংয়ে ৫ বছরের জেল: পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং করা অথবা অবৈধভাবে তা পরিবর্তন করাকে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করে অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
২০০১ সালের ১৫ জুলাই বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।
তবে বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও চিকিৎসার পাশাপাশি জীববিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কৃষিবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা ও উন্নত গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।