হোম > জাতীয়

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে বিজিবি-এসআরবি-পুলিশ-আনসার, আকাশে হেলিকপ্টার-ড্রোন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: ফাইল ছবি

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এসআরবি (সাবেক র‍্যাব), পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধ, নাশকতা মোকাবিলা ও প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি হেলিকপ্টার, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে চালানো হবে নজরদারি।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এ ছাড়া রয়েছেন সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পৃথক ব্রিফিংয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শনকালে বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় বিশেষ কমান্ডো টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্সও প্রস্তুত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বিজিবি। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্থানে ১৮টি বেজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা পূজামণ্ডপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।

আজ রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৮টি বেজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি বিজিবির বিভিন্ন দপ্তরের কাছাকাছি থাকা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।

এবার ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিন দায়িত্ব পালন করবেন ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন এবং নারী ৬৬ হাজার ৩৩০ জন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ সদস্য প্রস্তুত থাকবেন।

সারা দেশে এবার ৩২ হাজার ৪৬৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১১ হাজার ৭৮১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৪ হাজার ৪৭০টি সাধারণ মণ্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার মধ্যে ১৩টি জেলার ৮ হাজার ৩১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

এসব পূজামণ্ডপে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আটজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ মণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজারের বেশি এসআরবি সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলোতে প্রতিদিন ৫৪৯টি পিকআপ টহল এবং ৪৪৭টি মোটরসাইকেল টহল চলমান রয়েছে সংস্থাটির। ঢাকায় ব্যাটালিয়নের ২৯টি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবির উপমহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী।

আজ আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, নিরাপত্তায় এবার আরও বেশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়েছে আনসার সদস্যরা। পর্যাপ্ত দক্ষতা নিয়েই আনসার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকছে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৩৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাক্‌-পূজা, পূজাকালীন ও প্রতিমা বিসর্জন—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে পুলিশ ইউনিটগুলোকে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারের অধীনে জয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন সেল খোলা হয়েছে। পাশাপাশি সব জেলা ও মহানগর পুলিশকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাতে পাহারা, স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও আর্মব্যান্ড নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের তল্লাশি, নারী দর্শনার্থীদের তল্লাশিতে নারী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী নিরাপত্তা দল মোতায়েনের নির্দেশনাও রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও জামিনে মুক্ত সদস্যদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু করা ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপের’ মাধ্যমে পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, আনসার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও গুজব প্রতিরোধেও অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে। এসআরবির হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে আজ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে কমিশনারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, গুজব প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত পথে বিসর্জনস্থলে যাওয়া, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম সমন্বয়, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনে নদীতে নৌ টহলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার নম্বর দৃশ্যমান স্থানে রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির পরিদর্শনকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপ সিসি ও বডিওর্ন ক্যামেরা দিয়ে কন্টোলরুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। দুই-একটি ককটেল বিস্ফোরণ হলেও পূজামণ্ডপ ঘিয়ে এ ধরনের নাশকতার কোনো শঙ্কা নেই। তিনি জানান, দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা যেন কেউ ঘটাতে না পারে, সে জন্য ডিএমপি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।