হোম > জাতীয়

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ফের হাহাকার: গরুর ১০০-৬০০ টাকা, ছাগলেরটা কেউ নেয় না

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বগুড়ায় চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান চামড়ার বাজার বগুড়া, পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুরের গাংনী—সবখানেই চরম ক্রেতাসংকটে অবিক্রীত পড়ে রয়েছে হাজার হাজার পশুর চামড়া।

চামড়ার পানির দরের কারণে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কোরবানিদাতারা, তেমনই লাভের আশায় গ্রামগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে চরম লোকসান ও পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আড়তদারদের পুঁজিসংকট, ট্যানারিমালিকদের বকেয়া অপরিশোধিত থাকা, লবণের বাড়তি দাম ও গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে চামড়া খাতে এ বছর বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

একসময় কোরবানি এলেই বগুড়ার যে চামড়ার বাজার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মুখর থাকত, এ বছর সেখানে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বড় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি বা তৎপরতা ছিল একেবারেই নগণ্য।

স্থানীয় আড়তদার ও বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত তিনটি কারণে বাজারে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে:

ট্যানারির বকেয়া টাকা আটকে থাকা: ঢাকার ট্যানারিমালিকদের কাছে স্থানীয় আড়তদারদের আগের বিপুল পরিমাণ বকেয়া পাওনা আটকে আছে। আড়তদার শামীম হোসেন বলেন, ‘ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পেলে আমাদের পক্ষে নতুন করে বড় আকারে চামড়া কেনা বা বাজারে বিনিয়োগ করা অসম্ভব।’

লবণের মূল্যবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয়: লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে আড়তদারেরা বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।

ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি): গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ল্যাম্পি রোগের কারণে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দাম কেবল ভালো মানের চামড়ার ক্ষেত্রেই মিলছে, অন্যগুলো বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে।

বগুড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাঁরা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় সংগ্রহ করে শহরে এনে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শহরের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, গ্রাম থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে এনে এখন শহরে লোকসানে ছাড়তে হচ্ছে। গাড়িভাড়া ও লেবার (শ্রমিক) খরচ মেটানোর পর হাতে কিছুই থাকছে না।

খাসির চামড়ার অবস্থা আরও নাজুক। ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা খাসির চামড়া আড়তগুলোয় মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও বাজারে চামড়া কেনার মতো কোনো পাইকারি ক্রেতা বা আড়তদারের দেখা মেলেনি। যার ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির চামড়া যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়ার দাম হাঁকছেন ১০০ টাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চৌদ্দগ্রাম বাজারে সন্ধ্যায় কিছু ক্রেতার দেখা মিললেও তাঁরা প্রতি পিস গরুর চামড়ার দাম হাঁকছেন মাত্র ১০০ টাকা। অথচ দুপুরের দিকে স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রামগঞ্জ থেকে প্রতিটি চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনেছিলেন। পাইকার না থাকায় তাঁরা এখন চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সাদ্দাম হোসেন নামের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘সকালে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে প্রতি পিস চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এখন বাজারে এনে দেখি চামড়া কেনার কোনো আড়তদার নেই। এই চামড়া নিয়ে এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।’

আরেক ব্যবসায়ী আহসান উল্লাহ জানান, কিছুটা লাভের আশায় তিনি ২৪ পিস চামড়া কিনেছিলেন, কিন্তু বাজারে কোনো ক্রেতা না থাকায় তাঁর পুরো বিনিয়োগই এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম।

চৌদ্দগ্রামের প্রত্যন্ত চিওড়া এলাকা থেকে ৬০ টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন জাফর আহমেদ। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় গরু একাকী কোরবানি দিয়েছিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জাফর আহমেদ বলেন, ‘সকাল থেকে নিজ এলাকায় চামড়ার কোনো ক্রেতা পাইনি। ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে চৌদ্দগ্রাম বাজারে এলাম বিক্রি করতে। এখানে এসে কোনো আড়তদার না পেয়ে বাধ্য হয়ে এক মৌসুমি ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১০০ টাকায় চামড়াটি বিক্রি করতে হয়েছে।’ তাঁর মতো অনেক সাধারণ কোরবানিদাতাই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাজার ও সড়কের পাশে ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।

পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়ও চামড়ার বাজারে চরম মন্দাভাব লক্ষ করা গেছে। বিগত বছরের লোকসান এবং চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রভাব এবারও বাজারে স্পষ্ট।

মেহেরপুরের গাংনীতে ছাগলের চামড়ার দাম ২০ টাকা থেকে শুরু। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাংনীতে এবার চামড়া কোনোমতে বিক্রি হলেও দাম অত্যন্ত কম। মাঠপর্যায়ে আকারভেদে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার দাম নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়। বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দিচ্ছেন।

স্থানীয় কোরবানিদাতা মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছর দাম এত কম ছিল যে, চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল। এবারও দাম ভালো না। ছাগলের চামড়া নিয়ে বসে আছি, বিক্রি না হলে এবারও মাটিতে পুঁতে রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

আরেক কোরবানিদাতা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, ছাগলের চামড়ার দাম মাত্র ২০ টাকা বলে চলে গেছেন এক ব্যবসায়ী। সরকারের উচিত এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের দাম বাড়ানো। গত বছর ছাগলের চামড়ার দাম ১০ টাকাও দেয়নি। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ছাগলের চামড়ার দাম ২০ টাকা পাওয়ার চেয়ে তা মাটিতে পুঁতে রেখে নিজের পকেট থেকে মাদ্রাসায় টাকা দেওয়া অনেক ভালো।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোহা. ইয়াসিন আলী জানান, তাঁরা সব সময়ই চরম লোকসানের ঝুঁকিতে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ‘লবণের দাম অনেক বেশি। আমরা ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। বড় বাজারে যদি আমরা ভালো দাম না পাই, তবে আমাদের পথে বসতে হবে।’

এদিকে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঈদের পর বিকেল পর্যন্ত অনেক এলাকায় কোনো চামড়া ব্যবসায়ীর দেখাই মেলেনি। ফলে সাধারণ মানুষ চামড়া নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন।

কাঁচা চামড়া খাতের এই বার্ষিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোয় ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ, তৃণমূল পর্যায়ে ট্যানারিমালিকদের সিন্ডিকেট এবং জেলাপর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা সরকারি লবণজাতকরণ সুবিধার অভাবই এই ধসের মূল কারণ। দ্রুত ট্যানারির বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা না করা এবং লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের অন্যতম প্রধান এই রপ্তানি খাতটি অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।

বাবা, মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির ঈদ শুভেচ্ছা

ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের প্রীতিভোজে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ ভবনে ঈদের নামাজে মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাবা-মায়ের কবরের পাশে প্রধানমন্ত্রী

কারাগারে ঈদ আনন্দ: বন্দীদের জন্য পোলাও-মাংস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতি ম্যাচ

এক রাকাতের পরই মুষলধারে বৃষ্টি, তবু মাঠ ছাড়েননি শোলাকিয়ার মুসল্লিরা