হোম > জাতীয়

ঢাকা-পাবনা রুট পাচ্ছে নতুন ট্রেন, নাম ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’

তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 

ফাইল ছবি

অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেনের নাম। ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নামের পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে যমুনা সেতু হয়ে চলবে এটি। বাংলাদেশ রেলওয়ে ৮০৭/৮০৮ নম্বরের নতুন এই এক জোড়া আন্তনগর ট্রেনের নামসহ পরিচালনার অনুমোদন এরই মধ্যে দিয়ে দিয়েছে। ট্রেনটিতে থাকবে এসি সিট, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার শ্রেণির আসন। ১২ কোচের এই ট্রেনের রেকের বেস হবে ঈশ্বরদীতে।

তবে নতুন এই আন্তনগর ট্রেন কবে থেকে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালান শিগগির দেশে আসার কথা। এসব কোচ আসার পর সেগুলো দিয়েই পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চলতি আগস্টেই এই রুটে ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।

রেলওয়ে সূত্র বলেছে, রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন শাখার ১৬ আগস্টের এক চিঠিতে নতুন ট্রেনটির নাম ও পরিচালনার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২২ জুলাই পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল। তখন ট্রেনটির নাম হিসেবে ‘সপ্তপদী’, ‘পাবনা’, ‘ইছামতী’, ‘চলনবিল’, ‘বুনন’, ‘হারমনি’, ‘রূপপুর এক্সপ্রেস’সহ কয়েকটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নামটিই চূড়ান্ত করেছে রেলওয়ে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) ফরিদ আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঢাকা-পাবনা রুটের নতুন ট্রেনের নাম, সময়সূচিসহ সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে “সপ্তপদী এক্সপ্রেস”। ট্রেন চালুর জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন ভারত থেকে কোচ আসার অপেক্ষায় আছি। কোচ আসার পর সেগুলোর টেস্টিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম শেষে ট্রেন চালু হবে। তবে ট্রেন কবে চালু হবে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এখনো। কোচ আসার পরে সরকার যখন নির্দেশ দেবে, তখনই ট্রেনটি চালু করা হবে।’

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি আগস্ট শেষ হতে আর এক সপ্তাহ রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে কোচ আসার পর সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে ট্রেন চালু করা কঠিন। ফলে নতুন ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন আগামী সেপ্টেম্বরে হতে পারে।

রেলের সময়সূচি অনুযায়ী, ৮০৮ নম্বর সপ্তপদী এক্সপ্রেস পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ২টা ১০ মিনিটে। পথে টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে পাবনায় পৌঁছাবে রাত ৯টা ২০ মিনিটে। পাবনা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ট্রেনটির নির্ধারিত সময় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট ও ঢাকা থেকে পাবনায় পৌঁছাতে ৫ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

রেলওয়ে সূত্র বলেছে, নতুন ট্রেনটির জন্য ১২ কোচের একটি রেক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আসনের কোচ, চেয়ার কোচ, খাবার ও অন্যান্য সেবার জন্য নির্ধারিত কোচসহ মোট ১২টি কোচ থাকবে। ট্রেনটিতে এসি সিট, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার শ্রেণির আসন থাকবে। ট্রেনে মোট আসন থাকবে ৮১৭টি।

অনুমোদন হওয়া নতুন ট্রেনের নথির তথ্য বলছে, নতুন ট্রেনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর রেকের বেস হবে ঈশ্বরদী। পাবনা স্টেশনে শিডিউল মেইনটেন্যান্স, ওয়াটারিং ও ক্লিনিংয়ের সুবিধা নেই। এ কারণে ট্রেনটির খালি রেক ঈশ্বরদী-পাবনা-ঈশ্বরদী চলাচল করবে। ট্রেনটির ওয়াটারিং ও ক্লিনিংও হবে ঈশ্বরদীতে।

আংশিক পরিবর্তন আসবে ঢালারচর এক্সপ্রেসের সময়সূচিতে

এদিকে সপ্তপদী এক্সপ্রেস চালু করতে বিদ্যমান ৭৭৯ নম্বর ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচিতে আংশিক পরিবর্তন আনতে হবে। রেলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন ট্রেনটি পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছাড়লে ঢালারচর এক্সপ্রেসকে ঢালারচর থেকে বর্তমান সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ছাড়তে হবে। অর্থাৎ, নতুন ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতে ঢালারচর এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় ২০ মিনিট এগিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, সপ্তপদী এক্সপ্রেস চালুর শুরুতে ট্রেনটির ক্যাটারিং সেবা দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিসেস। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাটারিং সেবা নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া ট্রেনটির যাত্রীসেবায় অ্যাটেনডেন্ট সরবরাহ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘অনবোর্ড সার্ভিস’।

নতুন ট্রেনের অনুমোদন নথি অনুযায়ী, সোমবার সপ্তপদী এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্য দিনগুলোয় পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেনটি চলবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি সময়সূচি ও যাত্রাবিরতির যৌক্তিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবার মানের দিকে নজর দিতে হবে। সড়কপথের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রেলকে কার্যকর বিকল্প করতে হলে নির্ধারিত সময়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রী পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।